আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন ছিল গত ২৪ জুন। তার জন্মদিনে আবেগঘন এক চিঠি লিখেন আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলা ৮ বছর বয়সী মানু লিটভি।
Advertisement
সামাজিক মাধ্যমে চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবনে আসে এক অবিশ্বাস্য সুখবর। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম লা নাসিওন জানাচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছে মানু। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের একটি বাণিজ্যিক অংশীদার প্রতিষ্ঠানই তার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছে।
সবকিছুর শুরু ‘সেরিয়া ইনক্রেইবলে’ নামের একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে হাতে একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হয়েছিল মানু। তাতে ছিল মেসির উদ্দেশে লেখা তার চিঠি। দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজেই পড়ে শোনায় হৃদয়ছোঁয়া কথাগুলো, ‘প্রিয় লিও, আজ তোমার জন্মদিন। তাই তোমাকে এই চিঠিটা লিখলাম। জানি না এটা তোমার হাতে পৌঁছাবে কি না। কিন্তু দিনটা শেষ হওয়ার আগে তোমাকে জানাতে চেয়েছি, তুমি আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
এরপর শুধু মাঠের মেসি নয়, মানুষ মেসিকেও তুলে ধরে ছোট্ট মানু। সে আরও বলতে থাকে, ‘তোমাকে খেলতে দেখলে মনে হয় বলটা যেন তোমারই একটা অংশ। সবকিছুই জাদুর মতো লাগে। তবে আমি শুধু তোমার খেলা নয়, মানুষ হিসেবেও তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। তুমি সবসময় সতীর্থদের সাহায্য করো, কঠিন সময়েও কখনো হাল ছাড়ো না।’
Advertisement
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি নজরে আসে ওই প্রতিষ্ঠানের। এরপর তারা যোগাযোগ করে মানুর পরিবারের সঙ্গে। উপস্থাপক পাওলা চাভেস এবার একটি নতুন চিঠি পড়ে শোনান—তবে সেটি ছিল মানুর উদ্দেশে। তিনি পড়েন, ‘আজ থেকে তোমাকে আর একা স্বপ্ন দেখতে হবে না। আমরা চাই, তোমার স্বপ্নের পরের অধ্যায়টা একসঙ্গে লিখতে। তাই আমরা তোমাকে এবং তোমার পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে চাই, যেন তোমরা জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিতে পারো।’
এর ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলা দেখার সুযোগ পাবে মানু। আর সেই সফরেই প্রথমবারের মতো নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—সামনাসামনি লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা করার আশা করছে সে।
নিজের প্রথম চিঠিতে মানু নিজের স্বপ্নের কথাও জানিয়েছিল, ‘আমিও আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে ফুটবল খেলি। আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন একদিন পেশাদার ফুটবলার হওয়া। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখ বন্ধ করে আমি একই স্বপ্ন দেখি।’
ছোট্ট মানুর কাছে মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলার নন, কঠিন স্বপ্নও যে সত্যি হতে পারে—তারই জীবন্ত উদাহরণ, ‘যখনই আমি আমার সেই স্বপ্নের কথা ভাবি, তখন তোমার কথাই মনে পড়ে। কারণ তুমি প্রমাণ করেছ, সবচেয়ে কঠিন স্বপ্নও একদিন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।’
Advertisement
এই সফরের মাধ্যমে নিজের আরেকটি স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে মানু। মাঠে বসে দেখবে নিজের প্রিয় তারকাকে, আর একই সঙ্গে আরও বড় স্বপ্ন দেখবে নিজেও একদিন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। তার নিষ্ঠা, ভালোবাসা আর সরল অনুভূতির এই গল্প ইতোমধ্যেই ছুঁয়ে গেছে বিশ্বের লাখো ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়।
এসকেডি/এমএমআর