সম্প্রতি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে জানা গেছে। এর জবাবে তালেবান পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালানোর দাবি করেছে। ফলে ক্রমেই পাকিস্তানে ভৌগলিক অবস্থানের অখণ্ডতা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে।
Advertisement
‘ভারত-ইসরায়েল-আফগানিস্তান জোট’ তত্ত্ব
এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং থিংক ট্যাংকের গবেষকরা দাবি করছেন, ভারত, ইসরায়েল ও আফগানিস্তান মিলে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গঠন করেছে। এই জোটটি পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোর পেছনে কাজ করছে। তাদের মতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বর্তমান সংঘাত এই তথাকথিত অশুভ জোটের ফল।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী— ক) ভারত অর্থায়ন ও শিল্প সক্ষমতা দেবে; খ) ইসরায়েল দেবে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তা ;গ) তালেবান যোদ্ধা সরবরাহ করবে যাদের লক্ষ্য হবে পাকিস্তান।
Advertisement
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও অভিযোগ করেছেন, ভারত গোপনে চিকিৎসা সহায়তার বাক্সের ভেতরে লুকিয়ে ইসরায়েলি তৈরি ড্রোন আফগানিস্তানে পাঠাচ্ছে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধও ভারত-ইসরায়েলের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য পাকিস্তানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা।
এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, সমঝোতার জন্য ইরান প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জায়নবাদীদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলের প্রভাব পাকিস্তানের সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে আসাই এর উদ্দেশ্য।
তিনি আরও দাবি করেন, আফগানিস্তান, ইরান ও ভারতের অভিন্ন লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বৈরিতা সৃষ্টি করা। আমাদের সীমান্তকে অনিরাপদ করা এবং চারদিক থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত করে পাকিস্তানকে একটি নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা।
রেডিও পাকিস্তানে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ড. আবদুল্লাহ গুল বলেন, মোদির ইসরায়েল সফরের পর থেকেই আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। এটি ভারত ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত বৃহত্তর একটি এজেন্ডার অংশ। এখানে আফগান তালেবানও সহযোগিতা করছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে আফগান সীমান্তে ব্যস্ত রেখে সহজে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করা।
Advertisement
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের পরিচিত সাংবাদিক নাজাম সেঠি। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তালেবান বর্তমানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত ও ইসরায়েলের প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার গজনফর আলি শাহও দাবি করেন, ভারত-ইসরায়েলের একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা জোট রয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র (RAW) এবং ইসরায়েলের মোসাদের কর্মকর্তারা কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন।
পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল ক্যাপিটাল টিভি সম্প্রতি ‘ভারত-আফগানিস্তান-ইসরায়েল জোট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে একটি টকশো সম্প্রচার করেছে।
এছাড়া ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত ‘দ্য ইন্ডিয়া-ইসরায়েল-আফগানিস্তান স্ট্র্যাটেজিক নেক্সাস’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে গোয়েন্দা সহযোগিতা, চীনকে মোকাবিলার কৌশল এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।
সূত্র: দ্য ইউরোশিয়ান টাইমসকেএম