জাতীয়

সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

Advertisement

সাভারে দায়ের হওয়া দুটি আলোচিত মামলার প্রধান আসামি হিসেবে আত্মগোপনে থাকা সামিরকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল আদালত সংলগ্ন একটি সড়ক থেকে সামিরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ৯ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ডিবির একটি দল তাকে গ্রেফতার করে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়।

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গ্রেফতারের সময় সামির নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমলেও ডিবির সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করা ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

পরে গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।

গ্রেফতার মাহাবুব হোসেন সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। সম্প্রতি সাভারে দায়ের হওয়া দুটি মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অটোরিকশা ও ব্যাটারি লুট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা, কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

Advertisement

রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল আদালত সংলগ্ন সড়ক থেকে সামিরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, দুটি মামলার তদন্ত চলমান। প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমে সামিরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফঠতার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সামিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তার পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্যঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে গত ৫ জুন সাভার থানা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

কমিটি ঘোষণার পর সামিরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর এক স্বজন সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করেন। একই সময়ে তার বড় ভাই যুবদল কর্মী হৃদয় হোসেন হেরোইনসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

তবে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় কিশোর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সামির অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি কাউকে নির্যাতন করিনি। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।’ তবে পদ থেকে অব্যাহতির পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের ভেতরে কোনো ধরনের অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এমডিএএ/ইএ