ধর্ম

শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার উপায়

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মানুষের শত্রু কে এবং তার গোমরাহী বা পথভ্রষ্ট করার ধরণ কেমন; যেন মানুষ তার শত্রুতা ও কুপ্ররোচনার ব্যাপারে সতর্ক হতে পারে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর মহিমা ও মহানুভবতায় কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; যিনি আল্লাহর সমস্ত রাসুল ও নবীগণের নেতা। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী—যারা মানবজাতির নেতা ও অত্যন্ত পরহেযগার ছিলেন—তাদের সকলের ওপর কেয়ামত পর্যন্ত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

Advertisement

আম্মা বা’দ

নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্রু। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।’ শয়তান মানুষের অন্তরে কুপ্ররোচনা দেয় আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার জন্য, আপনারা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবেন না।

আল্লাহর কাছ থেকে মানুষকে দূরে সরাতে শয়তান মানুষকে জ্ঞান অর্জন ও নেক আমল করতে বাঁধা দেয়, ইখলাস অর্জন কতে বাঁধা দেয়। এসব ক্ষেত্রে শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।’

Advertisement

শয়তান মানুষের সামনে মিথ্যা ও বাতিলকে চমৎকার ও আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলে। যেমন কোরআনের বর্ণনায় শয়তান আল্লাহ তাআলার সামনে বলেছিল, ‘আমি অবশ্যই তাদের সামনে জমিনের বুকে পাপ কাজকে সুশোভিত করব এবং তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শয়তান তাদের আমলগুলো তাদের সামনে সুশোভিত করে দেখিয়েছে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শয়তান তাদের আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘায়িত করেছে এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দিয়েছে।’

আরও পড়ুন জুমার খুতবা / আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সহজ আমল

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘শয়তান তোমাদের অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ দেয়; আর আল্লাহ তোমাদের তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ শয়তানের উক্তি উদ্ধৃত করে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, (শয়তান বলেছিল) ‘আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে মিথ্যা আশা দেব, তাদেরকে আদেশ করব ফলে তারা পশুর কান ফাড়বে এবং তাদেরকে নির্দেশ দেব ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’

অতএব, মানুষের উচিত প্রতি মুহূর্তে শয়তানের কুপ্ররোচনা ও চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা। কোরআনের বর্ণনায় শয়তান আল্লাহ তাআলার সামনে বলেছিল, ‘আমি অবশ্যই তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে তাদের কাছে আসব; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন, ‘এখান থেকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও! তাদের মধ্য থেকে যারা তোমার অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।’

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন শয়তানের চক্রান্ত ও কুপ্ররোচনা থেকে আমাদের রক্ষা করেন। আল্লাহ আমাদের সব কাজের সঠিক দিশা দিন, আমাদের আত্মাকে শোধন করুন এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

Advertisement

আরও পড়ুন জুমার খুতবা / ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান

বিতাড়িত শয়তান থেকে পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।’ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি তোমাকে তাড়িত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় নাও। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন শয়তানের কোনো দল বা প্ররোচনা তাদের স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়।’

আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য পবিত্র কোরআনে বরকত দান করুন। এর আয়াতসমূহ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত মহান, দাতা, বাদশাহ ও পরম দয়ালু।

আরও পড়ুন জুমার খুতবায় যা বলতেন বিশ্বনবি (সা.)

ওএফএফ