আন্তর্জাতিক

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও লাভ হলো না, সবাইকে ফিরতে হলো খালি হাতে

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর ঢলের ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেন সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করা অভিবাসীদের ‘প্রায় সবাই’ স্বেচ্ছায় আবার মরক্কোয় ফিরে গেছে।

Advertisement

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় সবাই এখন মরক্কোয় ফিরে গেছে।

স্প্যানিশ কর্মকর্তারা শনিবার জানান, সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরক্কো সীমান্তের পাশেও আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ সীমান্তের বেড়া ঘেরা ব্রেকওয়ালে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

Advertisement

ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই ব্যাপক অনুপ্রবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের দেশগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতির ছবিগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, স্পেন সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

Advertisement

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

৬০ হাজারের মতো মানুষ প্রবেশের চেষ্টা

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৩০০ জন মরক্কোয় ফিরে গেছে।

তবে সেউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে বলেন, এই গণ-অনুপ্রবেশ স্পেনের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাগরের দিকে থাকা সীমান্ত প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নতুন প্রতিবন্ধক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।

সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা

শুক্রবার রাতে মরক্কোর দাঙ্গা পুলিশ সীমান্তে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

এক তরুণ মরক্কোর নাগরিক বলেন, সত্যি বলতে, কেন এসেছিলাম সেটাই জানি না। এখন আবার ফিরে যাচ্ছি। গতকাল দুপুরের পর থেকে কিছু খাইনি। আমরা যা করছি, তা ভালোও নয়, আনন্দেরও নয়।

ইউরোপে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ

সেউতা এবং মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এগুলোই আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত।

ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীরা প্রায়ই মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আবার অনেকে কাছের বেলিউনেশ এলাকা থেকেও সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

সেউতা প্রশাসনের দাবি, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না—এমন একটি রায় দেওয়ার পর থেকেই অভিবাসীদের ঢল বেড়েছে।

তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসী এই আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতেন না। তাই শুধুমাত্র ওই রায়কে এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শুক্রবার রাতের পর সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হলেও অনেক অভিবাসী উপকূল ধরে বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম