ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্যমতে, এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দেশটিতে পৌঁছেছে।
Advertisement
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।
রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান থাকছেন যেসব দেশের
পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
Advertisement
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তাজিকিস্তান: তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমানও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
আর্মেনিয়া: আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জর্জিয়া: জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলিও খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দেবেন বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে।
Advertisement
উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যেসব দেশ
বাংলাদেশ: বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে গেছে।
চীন: চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই এই বিদায় অনুষ্ঠিত যোগ দেবেন।
রাশিয়া: রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে। মেদভেদেভ রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী।
তুরস্ক: তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ খামেনির দাফনপ্রক্রিয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আঙ্কারা নিশ্চিত করেছে।
ভারত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা খামেনির শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকবেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসনাইন বর্তমানে ভারতের সরকারি পদে থাকা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিয়া ব্যক্তিত্ব। ভারতের প্রতিনিধিদলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও বিরোধী নেতা মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।
আফগানিস্তান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি গতকাল তেহরানে পৌঁছেছেন। আফগান সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে যা জানা গেছে
খামেনিকে প্রথমে মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগের আজকের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। শনি (৪ জুলাই) ও রোববার (৫ জুলাই) তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসময় খামেনির কফিন তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিনের পাশে তেহরানের অন্যতম বৃহৎ নামাজের স্থান গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রাঙ্গণে রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
সোম (৬ জুলাই) ও মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শোকযাত্রা দক্ষিণ দিকে পবিত্র নগরী কোমের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ পৌঁছাবে। সেখান থেকে দেশটির নাজাফ ও কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
সবশেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে ও শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদই ছিল আলী খামেনির জন্মস্থান।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএএইচ