খেলাধুলা

১২০ মিনিটেও ১-১ সমতা, খেলা গড়াল টাইব্রেকারে

৯০ মিনিটের পর আরও ৩০ মিনিটের লড়াই হলো মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে। কিন্তু এ লড়াইয়ে কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরেছে অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরলাইন ১-১ থাকায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ালো টাইব্রেকারে।

Advertisement

প্রথমার্ধে, ১৩তম মিনিটে মিশরের হয়ে ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমোশ; কিন্তু গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও তিনি অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের বাইরে শট মারেন। সেই মিসই পরে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় মিশরের জন্য।

৫৫তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায়। অস্ট্রেলিয়ার ফ্রি-কিক থেকে বক্সে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি নিজের জালেই হেড করে বসেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল হানির দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি ১৩তম আত্মঘাতী গোল, যা এক আসরে নতুন রেকর্ড।

গোল হজমের পর বলের দখল ধরে রেখে আবারও আক্রমণ বাড়ায় মিশর। তবে অস্ট্রেলিয়ার ঘন রক্ষণ ভাঙতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহ, মারমোশ কিংবা আশুররা। ৬৩তম মিনিটে আশুরের পাস থেকে সালাহ বল জালে পাঠানোর আগেই অফসাইডের পতাকা ওঠে।

Advertisement

ম্যাচের গতি ফেরাতে দুই কোচই একাধিক পরিবর্তন আনেন। ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর জায়গায় হাইসেম হাসান এবং হামদি ফাথির পরিবর্তে হোসাম আবদেলমাগুইদকে নামান মিশর কোচ। অন্যদিকে ৭৪ মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোকে তুলে এনে মোহাম্মদ তুরে ও আজদিন হ্রুস্টিচকে মাঠে নামান অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ।

শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচের ছন্দ অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের অর্ধে নেমে রক্ষণ সামলাতে থাকে, আর ইজিপ্ট ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তুললেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

৮০তম মিনিটে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন মিশর কোচ হোসাম হাসান। ডিফেন্ডার করিম হাফেজকে তুলে অতিরিক্ত আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে মাঠে নামান। জয়ের গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আফ্রিকার দলটি।

৮২তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার বিশালদেহী ডিফেন্ডার হ্যারি সাউত্তার কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগে ১০ গজ দূর থেকে হেড নিলেও সহজেই বল আটকে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির।

Advertisement

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। ৮৬তম মিনিটে হাইসেম হাসানের বিপজ্জনক ক্রস ঘুষি মেরে সরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। পাল্টা আক্রমণে কাই ট্রেউইনের শট প্রতিহত করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় মিশর।

যোগ করা সময়ে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৯০+৪ মিনিটে প্রায় জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। কর্নারের পর রামি রাবিয়ার শক্তিশালী হেড জালের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় উড়ে গিয়ে বল কর্নারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। পরের কর্নার থেকে মোহাম্মদ সালাহ শট নিলেও সেটি সহজেই তালুবন্দি করেন তিনি।

৯০+৬ মিনিটে শেষ সুযোগটিও পায় ইজিপ্ট। সালাহর নিখুঁত পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় হাইসেম হাসান বক্সের ভেতরে শট নিলেও শেষ মুহূর্তে হাঁটু বাড়িয়ে বল আটকে দেন হ্যারি সাউত্তার। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এই ডিফেন্ডার।

এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ১-১ সমতায় আটকে থাকায় শেষ ষোলোর এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের নিষ্পত্তি গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। দুই দলই এখন আরও ৩০ মিনিটের লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

আইএইচএস/