মতামত

ডেঙ্গু: অর্থনীতিরও নীরব বোঝা

বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি সংক্রামক রোগের নাম নয়; এটি ক্রমেই জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন—এই তিনের মিলিত সংকটে পরিণত হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ডেঙ্গুকে রাজধানীকেন্দ্রিক এবং বর্ষাকালের একটি মৌসুমি সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনঘনত্ব বৃদ্ধি এবং দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনার কারণে সেই ধারণা বদলে গেছে।

Advertisement

এখন বছরের বিভিন্ন সময়েই দেশের নানা জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা ভরে যাচ্ছে, চিকিৎসকের ওপর চাপ বাড়ছে, পরিবারগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ছে। অথচ আমাদের জনপরিসরের আলোচনা এখনো মূলত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। খুব কমই আলোচনায় আসে—ডেঙ্গুর প্রকৃত মূল্য কত? এই রোগ দেশের অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে? একটি পরিবারের আয়, সঞ্চয়, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর এর প্রভাব কত গভীর?

ডেঙ্গুর অর্থনৈতিক ক্ষতি বোঝার জন্য প্রথমেই বুঝতে হবে, একটি রোগ কখনোই কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়। একজন কর্মক্ষম মানুষ অসুস্থ হলে শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবার, কর্মস্থল, এমনকি রাষ্ট্রও ক্ষতির মুখে পড়ে। অর্থনীতিতে একে বলা হয় 'Cost of Illness'—অর্থাৎ একটি রোগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয়ের সমষ্টি। প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি, যাতায়াত ও পরিচর্যার খরচ। আর পরোক্ষ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে কর্মঘণ্টা হারানো, উৎপাদন কমে যাওয়া, পরিবারের অন্য সদস্যের কর্মবিরতি, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর আনুমানিক ১০ থেকে ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, যদিও এর একটি বড় অংশ শনাক্ত হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এডিস মশার বিস্তৃতি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশেও এখন নিয়মিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাস খুব পুরোনো নয়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এটি বড় আকারে নজরে আসে। এরপর ২০০০ সালে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। কিন্তু ২০১৯ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং পরবর্তী কয়েক বছরের ধারাবাহিক সংক্রমণ প্রমাণ করেছে যে ডেঙ্গু আর সাময়িক সংকট নয়। বরং এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বাইরেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেখাচ্ছে যে রোগটির ভৌগোলিক চরিত্র বদলে যাচ্ছে। অর্থাৎ এখন এটি শুধু নগর নয়, জাতীয় অর্থনীতিরও সমস্যা।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি হলো—চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। সরকারি হাসপাতাল থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, অতিরিক্ত সেবা কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পরিবারকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই ব্যয় অনেক সময় হঠাৎ করেই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যায়।

একজন সাধারণ ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ, এনএস১ পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিয়মিত প্লাটিলেট পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, পুষ্টিকর খাবার এবং যাতায়াত বাবদ কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়ে যায়। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আইসিইউ বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অনেক পরিবারের জন্য সেই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

একটি দেশের অর্থনীতি কেবল বড় বড় অবকাঠামো, বৈদেশিক বিনিয়োগ বা রপ্তানি আয় দিয়ে শক্তিশালী হয় না; মানুষের সুস্বাস্থ্যও তার অন্যতম ভিত্তি। যে সমাজ বারবার প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, সে সমাজের উৎপাদনশীলতা, সঞ্চয়, মানবসম্পদ এবং উন্নয়নের গতি—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডেঙ্গু সেই নীরব ক্ষয়ের নাম, যার হিসাব হাসপাতালের শয্যায় শেষ হয় না; এর প্রভাব পৌঁছে যায় পরিবারের রান্নাঘর, শিশুর শ্রেণিকক্ষ, শ্রমিকের কর্মস্থল এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতির গভীরে।

Advertisement

কিন্তু চিকিৎসা ব্যয়ই শেষ কথা নয়। প্রকৃত সংকট শুরু হয় যখন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আক্রান্ত হন। একজন রিকশাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পোশাকশ্রমিক কিংবা পরিবহন শ্রমিক যদি দুই সপ্তাহ কর্মস্থলে যেতে না পারেন, তাহলে তাঁর পরিবারের আয় প্রায় শূন্যে নেমে আসে। অথচ একই সময়ে চিকিৎসার ব্যয় বাড়তেই থাকে। অর্থনীতির দৃষ্টিতে এটি একটি দ্বৈত আঘাত—একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে ব্যয় বাড়ছে।

বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশেরই অসুস্থতাজনিত বেতনভুক্ত ছুটি, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ নেই। ফলে ডেঙ্গু তাদের জন্য শুধু একটি রোগ নয়, দারিদ্র্যের নতুন ফাঁদ।

নিম্নবিত্তের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারও ডেঙ্গুর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে মুক্ত নয়। বহু পরিবার মাসিক বেতননির্ভর। তাদের সঞ্চয় সীমিত। হঠাৎ কয়েক দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ৩০, ৫০ কিংবা ১ লাখ টাকা ব্যয় করতে হলে তারা সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হয়। অনেকেই ধার নেন, কেউ স্বর্ণালংকার বিক্রি করেন, কেউ আবার সন্তানের শিক্ষার জন্য রাখা অর্থ ব্যবহার করেন। একটি রোগ এভাবেই একটি পরিবারের বহু বছরের আর্থিক পরিকল্পনা ভেঙে দিতে পারে।

ডেঙ্গুর আরেকটি অদৃশ্য ব্যয় হলো উৎপাদনশীলতা হ্রাস। জ্বর সেরে গেলেও রোগীর দুর্বলতা অনেক সময় দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে পোস্ট-ভাইরাল ফ্যাটিগ বলা হয়। ফলে অফিসে উপস্থিত থাকলেও কর্মক্ষমতা আগের মতো থাকে না। শিল্পকারখানা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা সরকারি দপ্তর—সব ক্ষেত্রেই এই অদৃশ্য ক্ষতির প্রভাব পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় একে Presenteeism বলা হয়—কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও পূর্ণ উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে না পারা।

বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্রামক রোগের কারণে শ্রমঘণ্টা কমে গেলে জাতীয় উৎপাদনেও তার প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর অর্থনীতিতে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত, পরিবহন খাত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই মানবশ্রম প্রধান চালিকাশক্তি। ডেঙ্গুর মৌসুমে যদি বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, কর্মচারী বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হারান, তাহলে উৎপাদন, সরবরাহ এবং সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

শিক্ষা খাতেও ডেঙ্গুর প্রভাব কম নয়। একটি শিশু বা কিশোর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সে অন্তত কয়েক সপ্তাহ বিদ্যালয় বা কলেজে যেতে পারে না। পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হয়, মানসিক চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক আক্রান্ত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতির সরাসরি অর্থমূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হলেও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে।

ডেঙ্গুর কারণে স্বাস্থ্য খাতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়লে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যা, জনবল, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং ওষুধের প্রয়োজন হয়। সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করতে হয়। একই সময়ে অন্যান্য রোগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। অর্থাৎ ডেঙ্গু শুধু নতুন ব্যয় সৃষ্টি করে না, বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ আরোপ করে।

এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। আগে বর্ষাকালকে ডেঙ্গুর প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও এখন বছরের বিভিন্ন সময়েই সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ক্ষতির সময়কালও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশ্বের কয়েকটি দেশ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। সিঙ্গাপুর নিয়মিত নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডেও স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জনগণের সমন্বয়ে কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, শুধু চিকিৎসা নয়; প্রতিরোধে বিনিয়োগই সবচেয়ে লাভজনক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশেও ডেঙ্গু মোকাবিলার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। এটি কেবল সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন সারা বছরব্যাপী সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত লার্ভা জরিপ, নির্মাণাধীন ভবনের কঠোর তদারকি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু আক্রান্ত কর্মীদের জন্য নমনীয় ছুটি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার আওতা বাড়ানো গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও অনেকাংশে কমবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, প্রতিরোধে এক টাকা ব্যয় করলে চিকিৎসায় বহু টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। অর্থনীতির ভাষায় এটি উচ্চ সামাজিক মুনাফাসম্পন্ন বিনিয়োগ। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ একটি সুস্থ জনগোষ্ঠীই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, নাগরিকেরও। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, অব্যবহৃত পাত্র কিংবা জমে থাকা অল্প পানিও এডিস মশার নিরাপদ প্রজননস্থল হতে পারে। ব্যক্তিগত অসচেতনতা শেষ পর্যন্ত সামাজিক ব্যয়ে পরিণত হয়। তাই নাগরিক দায়িত্ববোধও এই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

একটি দেশের অর্থনীতি কেবল বড় বড় অবকাঠামো, বৈদেশিক বিনিয়োগ বা রপ্তানি আয় দিয়ে শক্তিশালী হয় না; মানুষের সুস্বাস্থ্যও তার অন্যতম ভিত্তি। যে সমাজ বারবার প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়, সে সমাজের উৎপাদনশীলতা, সঞ্চয়, মানবসম্পদ এবং উন্নয়নের গতি—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডেঙ্গু সেই নীরব ক্ষয়ের নাম, যার হিসাব হাসপাতালের শয্যায় শেষ হয় না; এর প্রভাব পৌঁছে যায় পরিবারের রান্নাঘর, শিশুর শ্রেণিকক্ষ, শ্রমিকের কর্মস্থল এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতির গভীরে।

ডেঙ্গুকে তাই আর মৌসুমি স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রশ্ন। আজ প্রতিরোধে যে বিনিয়োগ করা হবে, আগামীকাল সেটিই চিকিৎসা ব্যয় কমাবে, কর্মঘণ্টা বাঁচাবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং অসংখ্য পরিবারকে দারিদ্র্যের নতুন ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করবে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই লড়াই আসলে মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখারও লড়াই।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/জেআইএম