এমকে হক, জার্মানি
Advertisement
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে চোখ রাখলেই ইদানীং হাহাকার চোখে পড়ে- ‘জার্মানিতে কোনো কাজ নেই।’ এই এক বাক্যের আতঙ্ক নতুন আসতে চাওয়া তরুণদের স্বপ্ন যেমন ভাঙছে, তেমনি প্রবাসে থাকা অনেকের মনেও তৈরি করছে চরম হতাশা।
একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে যদি ভেতর থেকে পুরো বিষয়টাকে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে মুদ্রার ওপিঠটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চারপাশের এই নেতিবাচক প্রচারণার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অমোঘ বাস্তবতা, যা আমাদের ঠান্ডা মাথায় বোঝা দরকার।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পুরো ইউরোপের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগের মতো যে কোনো সাধারণ কাজ চাইলেই এখন আর সহজে মিলছে না। বিশেষ করে যারা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি কিংবা সুনির্দিষ্ট দক্ষতা ছাড়া কেবল একটি ভিসার ওপর ভরসা করে জার্মানি চলে আসছেন, তারা বাস্তবতার মাটিতে বেশ বড়সড় ধাক্কা খাচ্ছেন।
Advertisement
রেস্তোরাঁ কিংবা পণ্য সরবরাহের মতো প্রথাগত কাজগুলোতে এখন প্রতিযোগিতা আকাশচুম্বী। কিন্তু এর মানে কি এই যে জার্মানির দরজা সবার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে? উত্তর হচ্ছে—একদমই না। মন্দা চলছে ঠিকই, তবে তা অদক্ষ শ্রমের বাজারে, মেধার বাজারে নয়।
এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও যারা সফল হচ্ছেন, তাদের দিকে তাকালে তিনটি মূল চাবিকাঠি স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় ভাষা। আপনি যত উচ্চশিক্ষিতই হোন না কেন, জার্মান ভাষা না জেনে সে দেশের মূল কর্মক্ষেত্রে জায়গা করে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্তত মাঝারি মানের ভাষাগত দক্ষতা থাকলে এই মন্দার বাজারেও কাজের অভাব হয় না। আমরা অনেকেই এই প্রাথমিক প্রস্তুতিটুকু না নিয়েই বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি, যা পরে হতাশায় রূপ নেয়।
দ্বিতীয়ত, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। সাধারণ বা প্রথাগত কাজের পেছনে না ছুটে তথ্যপ্রযুক্তি, কোডিং বা কারিগরি দক্ষতার মতো পেশাগুলোতে মনোযোগ দেওয়া দরকার। এই ক্ষেত্রগুলোতে এখনো দক্ষ মানুষের বিপুল ঘাটতি রয়েছে। দেশ থেকেই যদি নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণ করার মতো যোগ্যতা তৈরি করে আসা যায়, তবে কর্মসংস্থানের বাজারটি অনেক সহজ হয়ে যায়।
Advertisement
তৃতীয় বিষয়টি হলো সে দেশের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা কাজের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সঠিক ব্যবহার। শুধু পুঁথিগত সনদের পেছনে না ছুটে সরাসরি কাজ শেখার এবং একই সাথে নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়ার এই চমৎকার সুযোগটি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জীবনকে অনেক বেশি সুরক্ষিত করে তুলতে পারে।
দিনশেষে, জার্মানি এখনো সম্ভাবনার একটি দেশ, তবে সেখানে সফল হওয়ার শর্ত এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন। চারপাশের হতাশা দেখে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে নিজের যোগ্যতার পরিধি বাড়ানোই এখন একমাত্র পথ।
ফেসবুকের সস্তা মন্তব্যে কান দিয়ে স্বপ্নবিমুখ হওয়ার চেয়ে নিজেকে সময়ের উপযোগী করে গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ দিনশেষে সুযোগ তাদের দুয়ারেই কড়া নাড়ে, যারা নিজেদের যোগ্য করে মাঠে নামেন।
এমআরএম