দেশজুড়ে

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তে শীর্ষে পিরোজপুর, কম ভোলায়

চলতি বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের বরিশাল বিভাগে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। আর সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে ভোলা জেলায়।

Advertisement

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে বছরের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন মোট ২০২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৮৯ জন। আর বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছেন মাত্র এক জন। এখনো বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৫ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পিরোজপুর জেলায়। এ জেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫৩১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮৬ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ৪৪ জন। এছাড়া বিভাগের মধ্যে শুধু পিরোজপুর জেলায় একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

আরও পড়ুন জিগাতলায় নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা, লাখ টাকা জরিমানা

ডেঙ্গু আক্রান্তে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা। এ জেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১৬ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ জন।

Advertisement

বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বরিশাল জেলা। এ জেলার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৪১২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮৩ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ৩০ জন।

বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পটুয়াখালী জেলা। এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৪১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২৫ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ১৬ জন।

বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বরগুনা জেলা। এ জেলার হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২২৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০৭ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ২০ জন।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ভোলা জেলায়। এ জেলার হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ১ জন।

Advertisement

আরও পড়ুন চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়ালো

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে হিসেবে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা অবশ্যই স্বস্তির। তাছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগী সাহআলম বলেন, গত ২৭ তারিখে আমি এখানে ডেঙ্গুর জন্য ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসার মান ভালো আছে কিন্তু জায়গা স্বল্পতার কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগী সগির বলেন, এখানে ডেঙ্গু রোগী ও সাধারণ রোগী পাশাপাশিই থাকে। কর্তৃপক্ষের উচিত ডেঙ্গু রোগের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা।

এক রোগীর স্বজন সোহেল বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের যদি আলাদা করে দেয়, আর আমরাও যদি আলাদা থাকতে পারি তাহলে সবাই সেবা ভালো মতো পাবে। ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ালে তো বিপদে পড়বো।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী জাগো নিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়নি। তাছাড়া আগের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। তবুও আমরা সতর্ক অবস্থানে থেকে সদর হাসপাতাল এবং জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, সবার সচেতনতায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সবাইকে মশার বিস্তার রোধ করতে বাড়ির আশে-পাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরিশাল সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মশক নিধনের জন্য নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জাগো নিউজকে বলেন, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক হচ্ছে মশা। তাই জুন মাসকে আমরা মশক নিধন মাস ঘোষণা করেছি। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যে সব ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোকে সচল করাসহ পানি যাতে শহরে না জমে সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শাওন খান/এনএইচআর/জেআইএম