বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডিব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন শুধু পরিবেশেই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
Advertisement
ডব্লিউএমওর ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়টি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ দশক। এর ফলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
আগে যেখানে ডেঙ্গু মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় কয়েকটি দেশে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ১৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৫ সালে বিএমসি পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে যায়।
Advertisement
গবেষকদের মতে, ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডেঙ্গু ভাইরাস সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়। গরম আবহাওয়ায় এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে, বেশি কামড় দেয় এবং তাদের শরীরে ভাইরাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গত পাঁচ দশকে ডেঙ্গুর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৭০-এর দশকে ১০টিরও কম দেশে এ রোগ স্থায়ীভাবে থাকলেও বর্তমানে ১৩০টির বেশি দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিবৃষ্টি, উচ্চ আর্দ্রতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জমে থাকা পানি এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া তুলনামূলক উষ্ণ শীতের কারণে আগে যেসব এলাকায় মশা টিকে থাকতে পারত না, সেখানেও এখন ডেঙ্গুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহে থাকলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, পানিশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ে।
Advertisement
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ, বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিকরা, প্রতি বছর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলায় আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সমন্বয়, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু এখন শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়, বরং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
এমএসএম