খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ে নেমে গেল এশিয়ার শেষ পতাকাও

এবারের ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে এশিয়ার কোনো দল নেই। অংশ নেওয়া দলগুলোর বেশির ভাগ দলই বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত উঠেছিল জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। নকআউট পর্বে ব্রাজিলের কাছ হেরে বিদায় নেয় জাপান এবং সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া।

Advertisement

টাইব্রেকারে মিশরের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ার শেষ প্রতিনিধিরও স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় চলমান এই বিশ্বকাপে এশিয়ার শুধুই দর্শক।

এমন পারফরম্যান্স এশিয়ার ফুটবলের জন্য এক বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়ার অংশগ্রহণ সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার গল্পই বেশি। এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হাত ধরে। সেবার তারা ইতালিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, যা তখন বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। ১৯৯৪ সালে সৌদি আরবের সাঈদ আল-ওয়াইরানের সেই অবিস্মরণীয় গোল এখনো বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি। কিন্তু সবচেয়ে বড় অর্জন ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার। জাপানের সাথে যৌথ আয়োজনে তারা সেমিফাইনালে উঠে ইতালি ও স্পেনকে হারিয়ে এশিয়ার পতাকা উড়িয়েছিল। এখনো এটাই এশিয়ার সেরা ফলাফল।

জাপান চারবার শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে, অস্ট্রেলিয়া ২০০৬ ও ২০২২-এ একই কীর্তি গড়েছে। ইরান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দল মাঝে মাঝে চমক দেখালেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি।

Advertisement

বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীরা স্বপ্ন দেখে এশিয়ার দলগুলোর সাফল্যের। কিন্তু বাস্তবে ইউরোপ-লাতিন আমেরিকার দাপটের সামনে এশিয়া প্রায়ই পিছিয়ে পড়ে। অর্থ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির অভাব, খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় লিগে সীমিত সুযোগ—এসব কারণে এশিয়ান ফুটবলের উন্নতি বাধাগ্রস্ত।

২০২৬-এর এই ব্যর্থতা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে এশিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষকে। আরও বেশি বিনিয়োগ, যুব উন্নয়ন ও কোচিং মানোন্নয়ন ছাড়া এই গ্যাপ কমানো কঠিন। এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা এখনো আশা রাখে—একদিন হয়তো কোনো এশিয়ান দল বিশ্বকাপ জিতবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ এখনো অনেক দূর।

আরআই/এসকেডি/এএসএম

Advertisement