আন্তর্জাতিক

ভিডিও ফাঁস করায় চাকরিচ্যুত, এবার জেলেও গেলেন নারী

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি ডে কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ ভিডিও ফাঁস করে তোলপাড় সৃষ্টি করা সেই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

শনিবার (৪ জুলাই) বেঙ্গালুরু পুলিশ তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্পর্শকাতর ভিডিও ক্লিপগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন ডে কেয়ারে ভয়ংকর কাণ্ড: কাঁদলেই শিশুদের আটকে রাখা হতো ওয়াশিং মেশিনে!

ভিডিও ফাঁসের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীকে থানায় ডেকেছিল পুলিশ। দীর্ঘ সময় তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মীরা। পুলিশ কী কারণে তাকে আটকে রেখেছে, তা প্রথমে স্পষ্ট করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, সংবেদনশীল ভিডিও ফাঁস করার অপরাধেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওয়াশিং মেশিনে শিশু নির্যাতন!

চলতি সপ্তাহে ওই নারীর ফাঁস করা ভিডিওগুলোতে শিশুদের ওপর নির্মম নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছর বয়সী শিশুকে ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর বসিয়ে রাখা হয়েছে। আর ডে কেয়ারের কর্মীরা তার ওপর ওয়াটার জেট স্প্রে দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের বাথরুমে আটকে রাখছেন কর্মীরা।

Advertisement

ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। এর পরপরই পুলিশ ও কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনে আলাদা দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন অফিসের বেঁচে যাওয়া চা-বিস্কুট নেওয়ায় ১৭ বছরের চাকরি হারালেন পিয়ন!

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনার পরপরই ওই ডে কেয়ার কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

এদিকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে এরই মধ্যে ডে কেয়ারের দুই কর্মী বিজয়লক্ষ্মী ও মঞ্জুলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় আরও গ্রেফতার হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।

বন্ধ ডে কেয়ার

গ্লোবাল কনসাল্টিং ফার্ম ক্যাপজেমিনি (Capgemini) টেকনোলজি পার্কের ভেতরে এই অন-ক্যাম্পাস ডে কেয়ারটি অবস্থিত। জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সেন্টারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু নিবন্ধিত ছিল। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন শিশু সেখানে আসত। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সন্তানরাই মূলত এই ডে কেয়ারে থাকত।

Advertisement

আরও পড়ুন ‘যা, মর!’ / পাকিস্তানি শুনে ক্ষুধার্ত সহযাত্রীকে খাবার দিলেন না ভারতীয় লেখিকা

ঘটনার পর ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তারা তদন্তে পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আপাতত ওই অন-ক্যাম্পাস ডে কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/