খেলাধুলা

বিশ্বকাপে কততম হলো কেপ ভার্দে, জার্মানি? দেখে নিন চূড়ান্ত তালিকা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ১৬টি দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই ৩২টি দল তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জেনে গেছে।

Advertisement

বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে দুই শক্তিশালী ফেবারিটের অকাল বিদায় ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা নেদারল্যান্ডস মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। তারা ১৭তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে, যা ইতোমধ্যেই বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।

উরুগুয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরও বিদায় ঘটে। জার্মানি টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করে ১৮তম স্থানে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ২২তম হওয়ার তুলনায় এটি কিছুটা ভালো ফল হলেও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য শেষ ষোলোতেই থেমে যাওয়া ছিল বড় হতাশার।

২০২৬ বিশ্বকাপে কোনো এশীয় দলই শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি। অধিকাংশ দলই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। কেবল জাপান এবং ওশেনিয়ার দেশ হলেও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সদস্য অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে উঠেছিল।

Advertisement

ব্রাজিলের কাছে হেরে জাপান ২১তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে। অন্যদিকে মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে অস্ট্রেলিয়া ২২তম স্থানে অবস্থান করে।

চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে ফিফার প্রকাশিত বিশ্বকাপের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। ১৭তম থেকে ৩২তম স্থান পর্যন্ত রয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নেওয়া দলগুলো, আর ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থানে রয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলগুলো।

প্রতিটি গ্রুপের মধ্যে সমান অবস্থানে থাকা দলগুলোর র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণে মুখোমুখি লড়াই বিবেচনা করা হয়নি, কারণ এসব দল সাধারণত একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি। পরিবর্তে ক্রমানুসারে বিবেচনা করা হয়েছে—গোল ব্যবধান, সর্বাধিক গোল, কার্ডের সংখ্যা এবং সবশেষে ফিফা র‌্যাঙ্কিং।

ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং গোলসংখ্যা—সবই সমান ছিল। ফলে চতুর্থ টাইব্রেকার, অর্থাৎ শৃঙ্খলামূলক (কার্ড) পয়েন্টের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নির্ধারিত হয়।

Advertisement

প্রতিটি হলুদ কার্ডের জন্য ১ নেতিবাচক পয়েন্ট এবং সরাসরি লাল কার্ডের জন্য ৪ নেতিবাচক পয়েন্ট গণনা করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা দুটি সরাসরি লাল কার্ড ও পাঁচটি হলুদ কার্ড পেয়ে মোট -১৩ পয়েন্ট পায়। অন্যদিকে ইকুয়েডরের ছিল একটি সরাসরি লাল কার্ড ও আটটি হলুদ কার্ড, মোট -১২ পয়েন্ট। ফলে ইকুয়েডর ২৫তম এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ২৬তম স্থানে অবস্থান করে।

দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ৩২তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দের অবস্থান তাদের অভিষেক বিশ্বকাপ অভিযানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। আফ্রিকার দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখিয়েছিল। আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও জিততে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য করে।

গোলরক্ষক ভোজিনহা ও তার সতীর্থদের হারিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও কেপ ভার্দের লড়াকু পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় গল্প হয়ে থাকবে—তাদের চূড়ান্ত অবস্থান যাই হোক না কেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত অবস্থান (১৭তম–৪৮তম)

১৭তম - নেদারল্যান্ডস১৮তম -জার্মানি১৯তম - আইভরি কোস্ট২০তম - ক্রোয়েশিয়া২১তম - জাপান২২তম -অস্ট্রেলিয়া২৩তম - কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র২৪তম -ঘানা২৫তম - ইকুয়েডর (শৃঙ্খলা পয়েন্ট: -১২; ১টি সরাসরি লাল কার্ড, ৮টি হলুদ কার্ড)২৬তম - দক্ষিণ আফ্রিকা (শৃঙ্খলা পয়েন্ট: -১৩; ২টি সরাসরি লাল কার্ড, ৫টি হলুদ কার্ড)২৭তম -সুইডেন২৮তম - অস্ট্রিয়া২৯তম- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা৩০তম -আলজেরিয়া৩১তম - সেনেগাল৩২তম - কেপ ভার্দে

আরআর/এসকেডি/এএসএম