বরগুনার অনেক পরিবার অজান্তেই বড় ড্রাম, মাটির পাত্র ও পানির সংরক্ষণস্থলে ‘মশার চাষ’ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিস্ট ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন।
Advertisement
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা জানান।
ডা. তারিকুল ইসলাম লিমন জানান, গত বছর বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তদন্তে জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে গিয়ে তারা কয়েকটি উদ্বেগজনক বিষয় শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন ডেঙ্গু ভাইরাসের নামকরণ হয়েছিল যে বিচিত্র উপায়েতিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট থাকায় মানুষ বড় বড় ড্রাম ও পাত্রে দীর্ঘদিন পানি সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এসব পাত্র মাসের পর মাস পরিষ্কার না করায় সেখানে ব্যাপকভাবে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে দেখা যায়।
Advertisement
অনেক পরিবার অজান্তেই ‘মশার চাষ’ করছে জানিয়ে বলেন, প্রতিটি বড় ড্রাম, মাটির পাত্র ও পানির সংরক্ষণস্থলে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য, পুরোনো ব্যানার ও তাতে জমে থাকা পানিতেও বিপুল পরিমাণ লার্ভা পাওয়া যায়।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা
তিনি আরও বলেন, সরকারি নজরদারিতে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো সরকারি হাসপাতালের তথ্য পাওয়া গেলেও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য জাতীয় সার্ভারে যুক্ত হয় না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতির একটি বড় অংশ অজানাই থেকে যায়।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের তথ্য সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
Advertisement
ডা. লিমন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মশারি ব্যবহারের প্রবণতাও তুলনামূলক কম। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসক সংযুক্ত করা, পৌরসভার মাধ্যমে ফগিং ও লার্ভাসাইড স্প্রে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা / ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায় চাপানো নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগগোলটেবিল আলোচনার শুরুতে জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জাগো নিউজে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভিন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ। এছাড়া জাগো নিউজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ডেপুটি এডিটর ড. হারুন রশীদ, প্রধান প্রতিবেদক ইব্রাহীম হুসাইন অভি, অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আসিফ আজিজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এমডিএএ/এএসএ/এমএফএ