স্বাস্থ্য

জমা পানি ফেলে দিলেই হবে না, পাত্র ঘষে পরিষ্কারও করতে হবে: ডা. আয়েশা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বিস্তার বন্ধ করার জন্য খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি শুধু ফেলে দিলেই হবে না, ঘষে পরিষ্কারও করতে হবে বলে জানিয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার।

Advertisement

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজনন বন্ধ করা। ঘরে রাখা ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, এসির ড্রেনেজ ট্রে কিংবা যে কোনো খোলা পাত্রে তিনদিন পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই শুধু পানি ফেলে দিলেই হবে না, পাত্রের চারপাশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ মশার ডিম পাত্রের গায়ে লেগে থাকে এবং পরে সেখান থেকেই লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা তৈরি হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) জাগো নিউজ আয়োজিত ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ডা. আয়েশা আক্তার এসব কথা বলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক।

আরও পড়ুন বছরের ৮-৯ মাসই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর দাপট, বদলেছে মশার চরিত্র

ডা. আয়েশা আক্তার জানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। তবে ২০১৮-১৯ সালের পর এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ফুলের টব, ফ্রিজ ও এসি ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী স্থানও বেড়েছে।

Advertisement

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। কিন্তু জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে। অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

ডা. আয়েশা আক্তার উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার রয়েছে এবং চিকিৎসকরা এসব রোগীর চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা দিতে বড় ধরনের সংকট নেই। প্রয়োজনীয় শয্যা ও চিকিৎসাসামগ্রীও রয়েছে। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় মূলত ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হবে। তাই রোগী বাড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়।

এই চিকিৎসক জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় মানুষ জানে, কিন্তু অনেকেই তা মেনে চলে না। যেমন, ডাবের খোসা বা পানি জমতে পারে এমন পাত্র নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়, যা এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন ডেঙ্গু রোগীর তথ্যে গরমিল, দিশাহারা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, সচেতনতা, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যত কার্যক্রমই নেওয়া হোক না কেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিস্ট ও মেডিকেল অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম লিমন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশাত পারভিন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।

এসময় জাগো নিউজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ডেপুটি এডিটর ড. হারুন রশীদ, প্রধান প্রতিবেদক ইব্রাহীম হুসাইন অভি, অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আসিফ আজিজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএএস/একিউএফ/এমএফএ