খেলাধুলা

আবারও পাকিস্তান দলের নেতৃত্বে বাবর আজম

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আবারও টেস্ট দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে বাবর আজমের হাতে। শান মাসুদের হতাশাজনক অধিনায়কত্বের পর তাকে সরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে বাবরকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার সময় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

Advertisement

এর আগে অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর বাবর আজমকে আবার নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সফল হয়নি। বিশেষ করে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় দফার নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তবুও প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি এবারও বাবরের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে।

শান মাসুদ তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৬টি টেস্ট খেলেছে, যার মধ্যে ১২টিতেই হেরেছে। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে কোনো অধিনায়কের প্রথম ১৬ ম্যাচে এত বেশি পরাজয়ের নজির আগে ছিল না।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ৫৬ টেস্টে ১৯টি হার নিয়ে এখনও সবচেয়ে বেশি টেস্ট হারা অধিনায়ক। উল্লেখযোগ্যভাবে, মিসবাহ ও শান মাসুদ—দুজনই নিজেদের অধিনায়কত্বের শেষ অধ্যায়ে টানা সাতটি টেস্টে হেরেছেন, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে যৌথভাবে দীর্ঘতম হারধারার রেকর্ড।

Advertisement

দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ বলেন, শুধু পরাজয় নয়, ম্যাচে জয়ের অবস্থান থেকেও বারবার ছিটকে পড়াই শান মাসুদের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তার ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে শেষ উইকেটে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বড় জুটি এবং মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সহজে গুটিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো নির্বাচকদের হতাশ করেছে।

অধিনায়কত্ব হারালেও দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন শান মাসুদ। কারণ, অধিনায়ক হিসেবে তার সাফল্য না থাকলেও ব্যাট হাতে পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলক ভালো।

অধিনায়ক হওয়ার আগে টেস্টে শানের ব্যাটিং গড় ছিল ২৮.৫১। নেতৃত্ব পাওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.০৬। এই সময়ে তিনি দুটি সেঞ্চুরি ও সাতটি অর্ধশতক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি শতক এবং মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) এক ম্যাচে দুটি ফিফটির ইনিংস ছিল।

Advertisement

বাবর আজমের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। এরপর ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। বছরের শেষদিকে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। ফলে দ্বিতীয় দফার অধিনায়কত্বে বাবর আজমের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।

এমএমআর