বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই যেন বেঁচে থাকার লড়াই। অনুশীলন, কৌশল আর মানসিক প্রস্তুতিতে যখন ব্যস্ত সব দল, তখনও নিজের স্বাভাবিক হাসিখুশি স্বভাব হারাননি নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। মাঠে যিনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের আতঙ্কের কারণ, মাঠের বাইরে তিনি ঠিক উল্টো-রসিক, প্রাণবন্ত এবং জীবন উপভোগে বিশ্বাসী।
Advertisement
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নরওয়ে দল নিউইয়র্কে পৌঁছানোর আগে কয়েক দিন কাটায় টেক্সাসে। অনুশীলনের ফাঁকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে বেরিয়ে পড়েন হলান্ড। আর সেখানেই দেখা গেল তার এক ভিন্ন রূপ-একজন আনন্দে মেতে থাকা ‘কাউবয়’।
টেক্সাসে কাউবয় সাজে হালান্ডটেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের দোকানে ঢুকেই যেন ছোট্ট শিশুর মতো উৎসাহী হয়ে ওঠেন নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন। মাথায় স্টেটসন কাউবয় টুপি, পায়ে চামড়ার বুট, সঙ্গে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক-সব মিলিয়ে নিজেকে স্থানীয়দের মতোই সাজিয়ে নেন তিনি।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন সাজ দেখে মজা করেই বলে ওঠেন, ‘আমাকে তো একেবারে সত্যিকারের কাউবয়ের মতো লাগছে!’
Advertisement
এরপর শুরু হয় টুপি, বুট ও চামড়ার নানা সামগ্রী ঘিরে হাসি-ঠাট্টা। একপর্যায়ে দোকানের কর্মীদের কাছে জানতে চান, সাপের চামড়ার তৈরি বুট বা টুপি পাওয়া যায় কি না। তার এমন প্রশ্নে দোকানের সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন।
টুপি নিয়ে মজার গল্পদোকানের কর্মীরা একের পর এক বিভিন্ন রঙের স্টেটসন টুপি এনে তাকে পরিয়ে দেখতে দেন। কালো, ধূসরসহ নানা রঙের টুপি পরে আয়নার সামনে নিজেকে দেখছিলেন হলান্ড। পাশ থেকে সতীর্থরাও মজা করতে ছাড়েননি।
একজন হাসতে হাসতেই বলে বসেন, ‘এখন তোমাকে স্ট্রাইকারের চেয়ে কাউবয়ই বেশি মনে হচ্ছে।’
সেই সময়ই টেক্সাসের কাউবয় সংস্কৃতির একটি প্রচলিত বিশ্বাসের কথাও জানতে পারেন হালান্ড। দোকানের এক কর্মী তাকে জানান, কাউবয় টুপি কখনো উল্টো করে রাখা উচিত নয়। এতে টুপির আকৃতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সৌভাগ্যও নাকি দূরে সরে যায়-এমন বিশ্বাস রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। কথাটি শুনেই টুপিটি দ্রুত সোজা করে রেখে হাসিমুখে হালান্ড বলেন, ‘তাহলে ভাগ্যটা সঙ্গে রাখাই ভালো।’
Advertisement
এই কেনাকাটা শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি হলান্ড। ছেলের জন্যও স্মারক হিসেবে একটি উপহার খুঁজছিলেন তিনি। টেক্সাসের জনপ্রিয় স্লোগান লেখা একটি টি-শার্ট তার পছন্দ হয়। পাশাপাশি নিজের জন্যও বেছে নেন কয়েকটি মজার বার্তা লেখা পোশাক।
তবে নতুন কাউবয় সাজ নিয়ে সবাই যে প্রশংসায় ভাসিয়েছে, তা নয়। এক সতীর্থ ঠাট্টা করে বলে বসেন, টুপিটি তাকে মোটেও মানায়নি।
আরও পড়ুন নরওয়ের ভাইকিংদের মতো ত্বক-চুল চান? জানুন রহস্যজবাবে হলান্ডের রসবোধও ছিল দারুণ। হাসতে হাসতেই বলেন, ‘আমি যখন এসব কিনি, সবাই সমালোচনা করে। কিন্তু আমি গোল করলেই সবাই চুপ হয়ে যায়।’
এমনকি নিজের নতুন লুক দেখে মজা করে বলেন, চাইলে এখনই জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ইয়েলোস্টোন-এ অভিনয়ও করে ফেলতে পারেন।
টেক্সাসের মানুষই জয় করল মনপোশাক বা কেনাকাটার আনন্দের চেয়েও বেশি যেটি তাকে মুগ্ধ করেছে, সেটি হলো টেক্সাসের মানুষের আন্তরিকতা।
স্থানীয়দের বন্ধুসুলভ আচরণ, প্রাণবন্ত জীবনধারা এবং ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করে হালান্ড বলেন, ‘সবাই এত আন্তরিক। তারা সত্যিই জীবনকে উপভোগ করে। এখানে এসে সেটা খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি।’
বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মাঝেও টেক্সাসে কাটানো সময়কে তিনি স্মরণীয় অভিজ্ঞতার একটি হিসেবে দেখছেন।
মাঠের বাইরেও আলাদা এক হালান্ডফুটবলের পাশাপাশি মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন হালান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও কনটেন্টে তাঁর সহজ-সরল এবং রসিক ব্যক্তিত্ব বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণ করে।
কখনো চলচ্চিত্রের বিখ্যাত চরিত্র জোকারের আদলে সেজে হাজির হন, কখনো বড়দিনে সান্তা ক্লজের পোশাকে ভক্তদের চমকে দেন। আবার কখনো রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে নিজ দেশের জনপ্রিয় স্যামন মাছ রান্না করতেও দেখা যায় তাকে।
আরও পড়ুন হালান্ডের প্রিয় খাবার প্রায়ই খাওয়া হয়, সহজে বাড়িতে বানিয়ে ফেলুনমাঠে তিনি প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর এক স্ট্রাইকার। কিন্তু মাঠের বাইরে সেই একই মানুষ প্রাণখোলা হাসি, রসবোধ আর সাধারণ জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই বারবার মনে করিয়ে দেন-বিশ্বকাপের চাপের মাঝেও জীবনকে উপভোগ করার জন্য একটু আনন্দ, কিছু হাসি আর কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের বিকল্প নেই।
জেএস/