জাতীয়

২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেও চট্টগ্রামে নেই বড় ধরনের জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তবে টানা ও ভারী বৃষ্টির পরও নগরের কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

Advertisement

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টির তথ্য প্রকাশ করে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির পরও নগরের বিভিন্ন এলাকার খাল, নালা ও ড্রেন দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হওয়ায় যান চলাচল ও জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

Advertisement

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। যেসব এলাকায় অতীতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা ছিল, সেসব স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

Advertisement

পরিদর্শনের সময় মেয়র বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নগরবাসীর যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বৃষ্টির সময় প্রকল্প এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনকে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাতভর জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এমআরএএইচ/এমএএইচ