লাইফস্টাইল

প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা কি সম্ভব

একটি সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব। যে সম্পর্কে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থাকে, সেই সম্পর্কই সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ও দৃঢ় হয়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কি সেই মানুষটির সঙ্গে আবার শুধুই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব?

Advertisement

সম্প্রতি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি। অভিনেতার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে তার সাবেক দুই স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি অনেকের মনে আবারও প্রশ্ন তুলেছে বিচ্ছেদের পরও কি সুস্থ,

সম্মানজনক বন্ধুত্ব কি সম্ভব

এ বিষয়ে মানুষের মতামত ভিন্ন। কেউ মনে করেন, সম্পর্ক শেষ মানেই বন্ধুত্বেরও ইতি। কারণ একসময় যার প্রতি গভীর আবেগ ছিল, তাকে হঠাৎ করেই শুধু বন্ধু হিসেবে দেখা সহজ নয়। আবার অনেকের বিশ্বাস, যদি দুজনই অতীতকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন এবং পুরোনো আবেগ থেকে বেরিয়ে আসেন, তাহলে বন্ধুত্ব বজায় রাখা অসম্ভব নয়। তবে প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু বিষয় ভেবে দেখা জরুরি।

যখন প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা যেতে পারে

যদি আপনাদের বন্ধুদের পরিসর একই হয়, তাহলে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক সময় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে সামাজিক অনুষ্ঠানে বা বন্ধুদের আড্ডায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

Advertisement

যেসব দম্পতির সন্তান রয়েছে এবং বিচ্ছেদের পরও সন্তানের দায়িত্ব দুজনকেই ভাগ করে নিতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সুস্থ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের পারস্পরিক বিরোধ সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই কর্মস্থলে কাজ করলে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন যেন কর্মক্ষেত্রে প্রভাব না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। সৌজন্যমূলক আচরণ কর্মপরিবেশকেও ইতিবাচক রাখে।

অনেক সময় সম্পর্ক শেষ হলেও দুজন মানুষের আগ্রহ, শখ বা চিন্তাভাবনার মিল থেকে যায়। বই, সিনেমা, গান কিংবা অন্য কোনো সৃজনশীল বিষয়ে আলোচনা যদি দুজনের কাছেই স্বস্তিদায়ক হয় এবং তাতে কোনো আবেগজনিত জটিলতা না থাকে, তাহলে বন্ধুত্ব টিকে থাকতে পারে।

যদি বিচ্ছেদটি পারস্পরিক সম্মতিতে হয়ে থাকে এবং দুজনেই সম্পর্ক শেষ হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়ে নতুন জীবনে এগিয়ে যান, তাহলে বন্ধুত্ব বজায় রাখার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।

Advertisement

আবার অনেক সম্পর্কই শুরু হয় বন্ধুত্ব থেকে। সে ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক সফল না হলেও, সময়ের সঙ্গে যদি আবেগের ভার কমে যায়, তাহলে পুরোনো বন্ধুত্ব ফিরে আসাও অসম্ভব নয়।

যেসব পরিস্থিতিতে প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব না রাখাই ভালো

সম্পর্কে যদি মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, অপমান, নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা বা অসম্মান থাকে, তাহলে সেই মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারণার কারণে সম্পর্ক ভেঙে গেলে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক সময় নতুন করে মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভাঙা বিশ্বাস সহজে ফিরে আসে না।

বিচ্ছেদের পরও যদি মনে হয় আপনি এখনো প্রাক্তনকে ভালোবাসেন বা তাকে ফিরে পাওয়ার আশা করছেন, তাহলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আপনাকে এগিয়ে যেতে বাধা দিতে পারে। এতে পুরোনো অনুভূতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন প্রতিদিন সূর্যাস্ত দেখলে মন ও শরীরে কী পরিবর্তন আসে

একইভাবে, যদি আপনার প্রাক্তন এখনও সম্পর্কে ফিরতে চান কিন্তু আপনার সেই ইচ্ছা না থাকে, তাহলে বন্ধুত্বের প্রস্তাব তার জন্য বিভ্রান্তিকর ও কষ্টের হতে পারে। এক পক্ষ যেখানে শুধু বন্ধুত্ব দেখছে, অন্য পক্ষ সেখানে আবার প্রেমের সম্ভাবনা খুঁজতে পারে।

অনেকে শুধু প্রাক্তনকে নজরে রাখার জন্য বা সে কেমন আছে জানার উদ্দেশ্যে যোগাযোগ বজায় রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস অনেক সময় অতীত থেকে বেরিয়ে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং নতুন সম্পর্ক বা নতুন জীবন শুরু করাও কঠিন করে তোলে।

আরও পড়ুন বয়স বাড়লেই কেন দূরে সরে যায় বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা উচিত কি না, তার কোনো একক নিয়ম নেই। তাই এই সম্পর্ক আপনার মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান ও বর্তমান জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যদি বন্ধুত্ব আপনাকে স্বস্তি দেয়, অতীতের ক্ষত না বাড়ায় এবং দুজনের জীবনেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে তা সম্ভব। কিন্তু যদি সেই সম্পর্ক পুরোনো কষ্ট, প্রত্যাশা বা বিভ্রান্তি ফিরিয়ে আনে, তাহলে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড, বিবিসি, হিন্দুস্তান টাইমস

এসএকেওয়াই