কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে ট্রেন না থামলে বা যাত্রাবিরতি না দিলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলস্টেশন অবরোধে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কুমারখালী রেলস্টেশন চত্বরে ঢাকা-খুলনাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেন আয়োজকরা।
Advertisement
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল আহমেদ তিয়াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাংবাদিক এম এ ওহাব প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে শাকিল আহমেদ তিয়াস জানান, কুমারখালী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রায় ৮ মাস ধরে আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ গত ১১ মে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে ট্রেন থামানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু গত ৫৭ দিনেও প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পায়নি এলাকাবাসী। ফলে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, বার বার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেনি প্রশাসন। আর সময় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার থেকে স্টেশনে ট্রেন না থামলে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হবে। দাবি আদায় না পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে।
Advertisement
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন ও ব্যবসায়ে সমৃদ্ধ প্রাচীন নগরী কুমারখালীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপুড়িয়া হাটটি স্টেশনের পাশেই অবস্থিত। অথচ স্টেশনে থামে না খুলনা টু ঢাকাগামী সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। দ্রুত ট্রেন থামানোর দাবি তার।
কুষ্টিয়া ১১১ জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সম্ভব হয়নি। তবে সচিবের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রায় ৭০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে।
আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/এএসএম
Advertisement