আন্তর্জাতিক

খামেনির জানাজার দিনও গাজা-লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১০

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার দিনেও গাজা ও লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তেহরানের রাস্তায় যখন লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের ঢল, ঠিক তখনই পৃথক হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

Advertisement

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ দাবি করেছেন, ইসরায়েলকে ‘ধ্বংস করার’ পরিকল্পনার অভিযোগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অন্যান্য নেতাদেরও ‘নির্মূল’ করার নতুন হুমকি দিয়েছেন।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় আরও পাঁচজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় আরও তিনজন নিহত হন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

সব মিলিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮ জনে। এই দীর্ঘ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন।

গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৭২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৪

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে চারজন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ইউসেফ শামউন পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, তার মা, একজন বিদেশি গৃহকর্মী এবং একজন সিরীয় নাগরিক রয়েছেন। তারা নিজেদের পারিবারিক বাড়িটি দেখতে যাওয়ার সময় দার আল-মুয়াল্লিমিনের কাছে তাদের গাড়িটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়।

Advertisement

লেবানিজ রেড ক্রস এবং সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে নাবাতিহ শহরের হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পশ্চিম তীরে ১১ হাজারেরও বেশি হামলা

ফিলিস্তিনি একটি কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পরও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

 

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/