যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার অনুমতি দেওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এমন ঘটনা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একেবারে নতুন নয়। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চার ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেখা গিয়েছিল।
Advertisement
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর বালোগুনের এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। শর্ত হিসেবে জানানো হয়, এক বছরের প্রবেশন সময়ের মধ্যে একই ধরনের অপরাধ করলে সেই স্থগিত শাস্তি কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন, যারা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে।
এদিকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো মনে করিয়ে দিয়েছে, ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল।
সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক চিলির বিপক্ষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় এলাদিও রোহাসকে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি উইঙ্গার গ্যারিঞ্চা। ফলে ফাইনালে তার খেলার কথা ছিল না। অন্যদিকে চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্টেই কার্যত বাইরে ছিলেন পেলে। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে বড় সংকটে পড়ে ব্রাজিল।
Advertisement
তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন গ্যারিঞ্চার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য জোরালো উদ্যোগ নেয়। তারা যুক্তি দেয়, গ্যারিঞ্চা একজন ‘অসাধারণ ক্রীড়াবিদ এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যক্তি।’ শেষ পর্যন্ত তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয় এবং তিনি ফাইনালে খেলতে পারেন।
চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে সেই ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতে ব্রাজিল নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে।
বালোগুনের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক চললেও, গ্যারিঞ্চার ১৯৬২ সালের ঘটনাটি দেখাচ্ছে যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ পরিস্থিতিতে লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য নজির আগে থেকেই রয়েছে।
আরআর/আইএন
Advertisement