আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একই সঙ্গে এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। সোমবার শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। ফলে বিশ্বকাপ জেতা আর হচ্ছে না রোনালদোর। তবে শেষ বিশ্বকাপটা এমন কাটবে জানলে হয়তো রোনালদো খেলতেন না!
Advertisement
পরিসংখ্যান বলছে এই বিশ্বকাপে রোনালদো ছিলেন কেবল এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ব্যক্তিগত পারফরমেন্স যাচ্ছেতাই। দলে সতীর্থদের সঙ্গে মনোমালিন্য-সবমিলিয়ে দুঃস্বপ্নের এক আসর দিয়ে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ করলেন রোনালদো। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারটাও বেশ সাদামাটা, ২৭ ম্যাচে ১১ গোল, যা পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ। এই ১১ গোলের ১০টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে; নকআউট পর্বে তার একমাত্র গোলটি এসেছে গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে। যে গোল করতে তার লেগেছে ১০ ম্যাচ ও ৭৪১ মিনিট। আর অ্যাসিস্ট দুটি। একটি ২০০৬ বিশ্বকাপে, অন্যটি ২০১৪ বিশ্বকাপে।
এই আসরে গোলপোস্টে মাত্র ১৭টি শট নিতে পেরেছেন রোনালদো। গত ৬০ বছরের মধ্যে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি না করে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়ার রেকর্ড এটি। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন রোনালদো। যেখানে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করেন রোনালদো, যা তার শুরু থেকে খেলা কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলা ১০ ম্যাচে রোনালদো কখনোই অন-টার্গেটে ২টির বেশি শট নিতে পারেননি। কালকের ম্যাচের আগে ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে এবং ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি করে শট নিয়েছিলেন।
Advertisement
গত আসর আর এই আসর মিলিয়ে শেষ ১৫ ম্যাচে একজন খেলোয়াড়কেও ড্রিবলিং করতে পারেননি। আর এই বিশ্বকাপে তো ড্রিবলিংয়ের চেষ্টাও করতে পারেননি।
এই বিশ্বকাপে দুটি রেকর্ডই ইতিবাচক! সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ খেলা ও নকআউটে গোল করা, দুটি রেকর্ডই দখলে নিয়েছেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনি গোলটি করেছেন ৪১ বছর ১৪৭ দিনে।
৬টি বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলারও রোনালদো।
এসকেডি/এএসএম
Advertisement