দিনাজপুরে অপহরণের পর চাঁদা দাবি করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় নেতা মো. আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
Advertisement
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দান থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন (২৯), সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) এবং হৃদয় হোসেন (২২)| তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সদর উপজেলার ২ নং সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা অপহরণের শিকার কৃষক আব্দুস সামাদ (৫৯) এর ছেলে মো. মামুন (৩৬) মধ্যরাতে বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।
Advertisement
পরে এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা থানার ভিতরে ঢুকে আটকদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এখবর পেয়ে ছাত্রদলসহ বিএনপির নেতা কর্মীরা থানায় গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী সংবাদ কর্মীদের উপর চড়াও হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত ৯টার সময় মো. আব্দুস সামাদ তার ব্যবহৃত মোবাইল এবং ইয়ামাহা স্যালুটো ১২৫ সিসি মোটর সাইকেল নিয়ে সদর উপজেলার পল্লিবিদ্যুৎ ৫ মাইল এলাকায় ২য় স্ত্রী মোছা. রেনু বেগম (৪৫) এর বাড়িতে যান। সেসময় মো. আরিফ মুন (২৯), মো. হাসিন ইসরাক মিম (২২), মো. আজমির হোসেন (২২), মো. সাজিদুল মিনহাজ (২৬), মো. হৃদয় (২২) সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আব্দুস সামাদ ও তার নাতি মো. রিফাত ইসলাম (১৪) ও মো. হাসিন ইসরাক মিমকে মারধর করে এবং রুবেল ডাকাত ও রোহানের নামে ভীতি প্রদর্শন করে আব্দুস সামাদকে তার মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে ৬ জুলাই দুপুর দেড়টার সময় আব্দুস সামাদকে অজ্ঞাতস্থানে আটক করে রাখা হয়েছে জানিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ১২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে তাদের কাছে পৌঁছে দিলে আব্দুস সামাদকে মোটর সাইকেল ও মোবাইল সহ ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তারা।
বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হলে, সোমবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানা পুলিশ একটি সাদা প্রাইভেট কার ও অপহরণের শিকার আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে। এসময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে আব্দুস সামাদের মোটর সাইকেল ও মোবাইল উদ্ধার হয়।
Advertisement
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার সময় দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি নুরনবী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফ করে জানান, আটক পাঁচ জনসহ আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আটকদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার তাদেরকে কোর্টে চালান করা হয়।
এমদাদুল হক মিলন/কেজে/এএসএম