জাতীয়

চামড়া শিল্পে সংকট রোধে সংসদে আলোচনা, বাণিজ্যমন্ত্রীর নানা আশ্বাস

জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে দেশের চামড়া শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

Advertisement

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

চামড়া শিল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, একসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাভার ট্যানারি কমপ্লেক্সের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এ খাতের এক লাখের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একটি কাঁচা চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য যেখানে ১৪০০ থেকে ১৭০০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় গরিব কৃষক ও কওমি মাদরাসাগুলো চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। এবারের কোরবানি ঈদে যথাযথ আর্থিক ঋণ সহায়তা ও সরকারিভাবে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ না থাকায় প্রায় ৩১ লাখ কাঁচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে দাবি করে তিনি এর পেছনে মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপের ঘাটতিকে দায়ী করেন। একই সাথে সাভার সিইটিপির আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি বা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ সার্টিফিকেশন অর্জন এবং রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন তিনি।

Advertisement

সাংসদের এসব প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে বলেন, চামড়া শিল্পের এ সংকটের বিষয়টি অনস্বীকার্য এবং হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত এ শিল্পের উদ্যোক্তারা বড় ধাক্কা খেয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করেন, সাভার সিইটিপির দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা মাত্র ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে পারছে এবং সেখানে ক্ষতিকারক ক্রোমিয়াম রিকভারির কোনো ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক এলডব্লিউজি সনদ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্কোরের ঘাটতি এবং ট্যানারিগুলোর নিজস্ব কমপ্লায়েন্স না থাকার কারণেই বিদেশি বড় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাঁচা চামড়ার বাজারে।

তবে ৩১ লাখ চামড়া নষ্ট হওয়ার তথ্য সঠিক নয় দাবি করে মন্ত্রী বলেন, এবারের কোরবানি ঈদে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর মধ্যে সরকারের নানা প্রচার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৭০ লাখ চামড়া সফলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের ঢালাওভাবে ব্যাংক ঋণ দিলে তা অপব্যবহারের ঝুঁকি ছিল এবং ব্যাংক সেই টাকা ফেরত পেত না, তাই বাজার সুরক্ষায় সুচিন্তিতভাবেই এবার বিশাল অঙ্কের নগদ ঋণ দেওয়া হয়নি।

তবে চামড়া সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহ ঢাকায় চামড়াবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাভারের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাভারের সিইটিপি সংস্কার করে এর সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গ করার পাশাপাশি আরও একটি নতুন সিইটিপি স্থাপন, বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি বাধ্যতামূলক করা এবং অক্ষম উদ্যোক্তাদের জন্য সম্মানজনক বিদায়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এসব সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

Advertisement

এমওএস/এমএএইচ/