কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিবারের আপত্তিতে জুলাই শহীদ কবির হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। আদালতের ময়নাতদন্তের নির্দেশ থাকলেও পরিবারের আপত্তি থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি।
Advertisement
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার একটি দল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর কবরস্থানে যায়।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও গোপনীয় শাখার সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দৌলতপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক টোটন উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় গত ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন দৌলতপুর উপজেলার কিশোরীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কবির হোসেন (৫০)। তিনি পরিবার নিয়ে উত্তরায় বসবাস করতেন। নিহত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ গ্রামের কিশোরীনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের দাবি, কবির হোসেন বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ।
Advertisement
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা কবরস্থানে পৌঁছালে নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উত্তোলনে আপত্তি জানান। এ সময় তারা কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে মরদেহ উত্তোলন স্থগিতের আবেদনও জমা দেন। পরে প্রশাসন মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম স্থগিত রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী তো মারাই গেছে, এতদিন পর তার মরদেহ কবর থেকে তুলে কী হবে। আমরা ময়নাতদন্ত চাচ্ছি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে৷
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, দৌলতপুরের বাসিন্দা কবির হোসেন ঢাকার উত্তরা এলাকায় ৫ আগস্ট নিহত হন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার দাফন হওয়ায় আদালতের নির্দেশে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়। তবে পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও গোপনীয় শাখার সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলম বলেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের আপত্তির কারণে মরদেহ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আদালতকে জানানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
জানা গেছে, এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। নিহত কবির হোসেন উপজেলার কিশোরীনগর এলাকার মৃত মোজাহার আলীর ছেলে।
আল-মামুন সাগর/এনএইচআর