লাইফস্টাইল

মিশরের মরুভূমির রং যেভাবে বদলে দিচ্ছে ফ্যাশনের কালার ট্রেন্ড

মরুভূমি মানেই অনেকের চোখে শুধু বালির বিস্তীর্ণ প্রান্তর। কিন্তু মিশরের মরুভূমির দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই দেখা যায় রঙের এক অনন্য জগৎ। সূর্যোদয়ের সময় নরম সোনালি, দুপুরে উজ্জ্বল বেইজ, বিকেলে উষ্ণ টেরাকোটা আর সূর্যাস্তে কপার, অ্যাম্বার ও পোড়া কমলার মতো নানা রংয়ে বদলে যায় মরুভূমির চেহারা।

Advertisement

প্রকৃতির এই পরিবর্তনশীল রঙের প্যালেট এখন শুধু ভ্রমণপ্রেমীদেরই মুগ্ধ করছে না, ফ্যাশন ডিজাইনারদের কাছেও হয়ে উঠেছে নতুন অনুপ্রেরণার উৎস।

বিশ্বজুড়ে এখন ফ্যাশনে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব ও মিনিমালিস্ট স্টাইলের জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম নিয়ন বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের বদলে মানুষ ঝুঁকছেন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা শেডগুলোর দিকে। আর সেই তালিকায় মিশরের মরুভূমি থেকে অনুপ্রাণিত বালুকাময় রংগুলো বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

মরুভূমির রঙের আকর্ষণ কোথায়

মিশরের সাহারা অঞ্চলের বালি কখনো হালকা ক্রিম, কখনো বেইজ, আবার কোথাও উষ্ণ বাদামি বা পোড়া কমলা রঙের দেখা মেলে। এই রংগুলো একই সঙ্গে শান্ত, মার্জিত এবং সময়ের ঊর্ধ্বে। ফলে এগুলো খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের পোশাক, জুতা কিংবা অ্যাকসেসরিজের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউট্রাল টোনের সুবিধা হলো এগুলো কখনো সহজে ট্রেন্ডের বাইরে চলে যায় না। তাই মরুভূমির অনুপ্রাণিত রঙগুলোকে ‘টাইমলেস কালার’ বলেও ধরা হয়।

Advertisement

যেসব রং সবচেয়ে জনপ্রিয়

স্যান্ড বেইজ, ডেজার্ট টোপ, ক্যারামেল ব্রাউন, টেরাকোটা, ক্লে অরেঞ্জ, অ্যাম্বার গোল্ড, কপার, অলিভ গ্রিন, স্টোন গ্রেল মতো রংগুলো মিশরের মরুভূমি থেকে অনুপ্রাণিত। এসব রং একসঙ্গে ব্যবহার করলেও দৃষ্টিনন্দন লাগে, আবার আলাদাভাবেও স্টাইলিশ লুক তৈরি করে।

শুধু পোশাকেই নয়

ডেজার্ট-ইনস্পায়ার্ড এই কালার প্যালেট এখন শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাগ, স্যান্ডেল, স্কার্ফ, সানগ্লাস, বেল্ট এমনকি ঘড়ির স্ট্র্যাপেও এই উষ্ণ রঙের ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া মেকআপেও এখন ব্রোঞ্জ, কপার, স্যান্ড, ক্যামেল ও টেরাকোটা টোনের আইশ্যাডো, ব্লাশ ও লিপস্টিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে এবং খুব বেশি কৃত্রিমও দেখায় না।

বাংলাদেশেও মানিয়ে যায়

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ত্বকের রঙের সঙ্গে এই ধরনের উষ্ণ আর্থি টোন বেশ ভালো মানিয়ে যায়। বিশেষ করে গরম বা বর্ষার সময় হালকা বেইজ, ক্যামেল, অলিভ কিংবা টেরাকোটা রঙের লিনেন, কটন বা খাদির পোশাক যেমন আরামদায়ক, তেমনি দেখতে অভিজাত লাগে। পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অফিস যেকোনো জায়গাতেই এই রঙের পোশাক সহজেই পরা যায়। সাদা, কালো বা অফ-হোয়াইটের সঙ্গে এসব রং মিলিয়ে পরলে আরও আকর্ষণীয় লুক তৈরি হবে।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?

বর্তমান ফ্যাশনে ‘স্লো ফ্যাশন’ ও টেকসই পোশাকের গুরুত্ব বাড়ছে। মানুষ এমন পোশাক কিনতে চাইছেন, যা একাধিক মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে এবং সহজে পুরোনো মনে হবে না। মরুভূমি থেকে অনুপ্রাণিত এই নিউট্রাল রঙগুলো ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেজার্ট অ্যাস্থেটিক, আর্থ টোন ফ্যাশন ও ন্যাচারাল কালার প্যালেটের জনপ্রিয়তা এই ট্রেন্ডকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। ভ্রমণ, স্থাপত্য ও প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে ছবি তুলতেও এসব রং বেশ আকর্ষণীয়ও দেখায়।

Advertisement

আরও পড়ুন সোনালি শাড়িতে নজরকাড়া দীঘি স্টাইলিংয়ের সহজ কৌশল

আপনি যদি প্রথমবার এই ট্রেন্ড অনুসরণ করতে চান, তাহলে পুরো পোশাক না বদলে ছোট পরিবর্তন দিয়েই শুরু করতে পারেন। যেমন: সাদা শার্টের সঙ্গে ক্যারামেল রঙের ট্রাউজার, বেইজ কুর্তির সঙ্গে টেরাকোটা ওড়না, কিংবা কালো পোশাকের সঙ্গে কপার রঙের ব্যাগ বা স্যান্ডেল। ছোট ছোট এই পরিবর্তনেই আপনার লুকে চলে আসবে মরুভূমির উষ্ণ সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

আরও পড়ুন সাদা ব্লেজারের রাজকীয় লুকে অপরূপ জয়া

প্রকৃতি সব সময়ই ফ্যাশনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। মিশরের মরুভূমির সোনালি বালি, সূর্যাস্তের উষ্ণ আভা আর মাটির কাছাকাছি থাকা রং আজ বিশ্ব ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করছে। জাঁকজমকের চেয়ে স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া এই সময়ের ফ্যাশনে তাই মরুভূমির রং হয়ে উঠেছে আধুনিক, মার্জিত এবং দীর্ঘস্থায়ী স্টাইলের প্রতীক।

সূত্র: ভোগ, এলি ম্যাগাজিন, প্যানটোন ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই