প্রতিরক্ষা খাতে খরচ না করা এবং ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় স্পেনের ওপর চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, স্পেনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সফর বাতিলেরও নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
Advertisement
আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি স্পেনের সঙ্গে কোনো কথা বলিনি। স্পেন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আমরা স্পেনের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্য করতে চাই না।’
সেখানেই থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই আপনি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য এখনই বন্ধ করে দেন।’
বিরোধের সূত্রপাতস্পেনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিরোধের সূত্রপাত গত বছরের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে। ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে তাদের জিডিপির পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
Advertisement
ন্যাটোর সব সদস্য দেশ এই প্রস্তাবে রাজি হলেও একমাত্র স্পেন এতে অস্বীকৃতি জানায়। মাদ্রিদের এই অবস্থানে চরম ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই স্পেনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের এই নির্দেশ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। আর ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য নীতি এককভাবে ইইউ নির্ধারণ করে থাকে।
ইরান যুদ্ধ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে দ্বন্দ্বন্যাটোর খরচ ছাড়াও ট্রাম্পের সঙ্গে স্পেনের দূরত্বের আরেকটি বড় কারণ ইরান যুদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
শুধু তা-ই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে স্পেনের কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে মাদ্রিদ। স্পেনের এই অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।
Advertisement
স্পেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ন্যাটোতে স্পেন খুবই বাজে অংশীদার। তারা কোনো কিছুতে অংশ নেয় না, টাকাও দেয় না। স্পেনের সঙ্গে আমি কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য এবং সফর বন্ধ করুন। এবার দেখা যাক, তারা যখন ফোন করে বলবে ‘স্যার, দয়া করে আমরা আপনাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাই’, তখন তাদের মনোভাব কেমন থাকে।’’
সূত্র: পলিটিকোকেএএ/