আন্তর্জাতিক

আজ রাতেই ইরানে কঠিন হামলা: হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতেই ইরানে অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি। এ সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প।

Advertisement

তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হেনেছি। অত্যন্ত কঠোর সেই হামলা ছিল। আজ রাতেও আমরা সম্ভবত তাদের ওপর আবার বড় ধরনের হামলা চালাব। আমি তাদের একটু সতর্ক করে দিচ্ছি, আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর খুব শক্তভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন যুদ্ধবিরতি শেষ, ইরানের সঙ্গে আর চুক্তি চাই না: ট্রাম্প

ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে সব বিষয়ে একমত হওয়ার পরও ইরানি প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা আসলে পাগল, এই মানুষগুলোর কোনো সমস্যা আছে। গত ৪৭ বছর ধরে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ত্রাস ছিল। কিন্তু তারা আর সেই অবস্থানে নেই। আমাদের চাওয়া খুব সহজ, তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

Advertisement

ট্রাম্প জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী চাইলে আজ রাতেই ইরানের আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে পারে। এমনকি দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তবে এখনই তিনি তেমন চরম কিছু করতে চান না বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে যে কেউ ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: ইরান

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, আজ রাতের হামলাটি অনেক বড় হতে পারে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্সও বাতিল করে দেয়। এর জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে দুই দেশের চার মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/

Advertisement