পার্বত্য চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসময় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার কাজ করছেন।
আরও পড়ুন জলাবদ্ধতায় স্থবির উত্তর চট্টগ্রাম, থমকে গেলো যোগাযোগ-শিক্ষা কার্যক্রমএদিকে, ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Advertisement
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
টিটি/এনএইচআর
Advertisement