বন্যার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা। বন্যার পানির সংস্পর্শে রান্নাঘর, খাবার ও রান্নার সরঞ্জাম সহজেই জীবাণু দ্বারা দূষিত হতে পারে। এ সময় সামান্য অসাবধানতাও ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ কিংবা অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু বিশুদ্ধ পানি পান করাই নয়, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও অত্যন্ত জরুরি।
Advertisement
রান্না, পান করা, ফল-সবজি ধোয়া কিংবা থালা-বাসন পরিষ্কারের ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে। যদি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে পানি অন্তত এক মিনিট ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করুন। প্রয়োজন হলে অনুমোদিত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও ব্যবহার করা যেতে পারে।
দুর্যোগে সুস্থ থাকতে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি গুরুত্ব দিন
বন্যার পানিতে ভেজা খাবার ফেলে দিনবন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খোলা খাবার, রান্না করা খাবার, ফলমূল বা সবজি খাওয়া উচিত নয়। এমনকি ক্যান বা বোতলজাত খাবারও যদি নোংরা পানিতে ডুবে থাকে, তাহলে ব্যবহারের আগে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ঢাকনা ফুলে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো খাবার খাবেন না।
Advertisement
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রান্নাঘর ব্যবহারের আগে মেঝে, রান্নার টেবিল, সিঙ্ক, তাক এবং রান্নার সরঞ্জাম ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। জীবাণুনাশক বা ব্লিচ মিশ্রিত পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় স্থান মুছে নিন। রান্নার কাপড়, স্পঞ্জ ও তোয়ালেও পরিষ্কার রাখা জরুরি।
রান্না করা খাবার বেশিক্ষণ বাইরে রাখবেন নাগরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় রান্না করা খাবারে দ্রুত জীবাণু জন্মাতে পারে। তাই খাবার রান্নার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে ফেলে রাখবেন না। সম্ভব হলে অল্প অল্প করে রান্না করুন এবং খাবার ঢেকে রাখুন।
বন্যায় খাবার নিরাপদ রাখলে সুস্থ থাকা যাবে
হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুনরান্নার আগে, কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পর, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার পরিবেশনের আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন। বিশুদ্ধ পানি না থাকলে অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে হাত দৃশ্যমানভাবে ময়লা থাকলে সাবান-পানিই সবচেয়ে কার্যকর।
Advertisement
কাঁচা মাছ, মাংস বা মুরগির সঙ্গে রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখবেন না। একই ছুরি, কাটিং বোর্ড বা পাত্র ব্যবহার করলে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে ক্রস-কন্টামিনেশন বা এক খাবার থেকে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
পোকামাকড় থেকে খাবার রক্ষা করুনবন্যার সময় মাছি, তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই সব খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন। ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত সরিয়ে ফেলুন এবং ডাস্টবিনের ঢাকনা বন্ধ রাখুন, যাতে পোকামাকড় খাবারের কাছে আসতে না পারে।
আরও পড়ুন ছাতা কেনার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন ফ্রিজের খাবার সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুনদীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদি ফ্রিজ কয়েক ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকে এবং খাবারের তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যায়, তাহলে সেই খাবার খাওয়া উচিত নয়। সন্দেহ হলে খাবার ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
আরও পড়ুন বন্যার সময় মানসিকভাবে শক্ত থাকতে যা করবেনবন্যার সময় রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং পরিবারের সুস্থতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে অনেক পানিবাহিত ও খাদ্যবাহিত রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুর্যোগের সময় সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে পুরো পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারে।
সূত্র: ইউনিসেফ, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন
এসএকেওয়াই