মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ দশমিক ৫২ বিলিয়ন রিঙ্গিতে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৬১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন রিঙ্গিতের তুলনায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
Advertisement
দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মালয়েশিয়ার হালাল সনদ, শক্তিশালী শিল্প-ইকোসিস্টেম এবং সুসংগঠিত হালাল উন্নয়ন অবকাঠামোর কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, হালাল রপ্তানির মধ্যে রয়েছে- খাদ্য ও পানীয়, হালাল উপাদান (ইনগ্রেডিয়েন্ট), পাম অয়েলের ডেরিভেটিভ পণ্য, প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা সামগ্রী, ওষুধ এবং রাসায়নিক শিল্পের পণ্য।
এছাড়া, ২০২৫ সালে দেশের মোট রপ্তানির ৪.৩ শতাংশ এসেছে হালাল পণ্য থেকে, যা বৈশ্বিক হালাল বাজারে মালয়েশিয়ার আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।
Advertisement
সংসদ সদস্য তান শ্রী মুহিউদ্দিন মোহদ ইয়াসিন (পাগোহ) সংসদে জানতে চান, মালয়েশিয়া হালাল রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছে কি না এবং ২০২৬ সালে নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য সরকারের কী কৌশল রয়েছে। এর লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানায় এমআইটিআই।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি প্রতিবেদন ২০২৪/২০২৫ অনুযায়ী, মালয়েশিয়া টানা ১১ বছর ধরে গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি ইন্ডিকেটর-এ বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালাল খাদ্য, ইসলামিক অর্থায়ন, মিডিয়া ও বিনোদন, প্রসাধনী ও ওষুধ এবং মুসলিমবান্ধব পর্যটন এই পাঁচটি খাতে মালয়েশিয়া বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, উদ্ভাবন, নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হবে।
Advertisement
২০২৬ সালে এমআইটিআই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দেশের হালাল রপ্তানি বাড়াতে বেশ কয়েকটি কৌশল বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বাজার সম্প্রসারণ, বিদ্যমান বাজার শক্তিশালী করা, সমন্বিত রপ্তানি প্রচারণা, আন্তর্জাতিক হালাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম, বাণিজ্য মিশন, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, ডিজিটাল প্রচারণা এবং বাজার গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং অন্যান্য অপ্রচলিত সম্ভাবনাময় বাজারে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা, কারিগরি জটিলতা এবং মান-অনুবর্তিতা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমআইটিআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্য প্রথমবারের মতো কেনিয়া, নাইজেরিয়া, তানজানিয়া, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান, টোগো এবং মরক্কোসহ বেশ কয়েকটি নতুন বাজারে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া, মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচারণা, বাণিজ্য মিশন, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং প্রোগ্রাম আরও জোরদার করবে।
২০২৫ সালে হালাল খাদ্য ও পানীয় খাতের রপ্তানি ছিল ৩৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত, আর হালাল উপাদান (ইনগ্রেডিয়েন্ট) খাতের রপ্তানি দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
এমআরএম