ইসলামের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে ইসলামবিরোধী শক্তি রাসুলুল্লাহর (সা.) বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছে। রাসুলুল্লাহকে (সা.) কালো জাদু করে পাগল বানিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ছিল এ রকমই একটি ষড়যন্ত্র।
Advertisement
এই কালো জাদু করেছিলেন ইহুদিদের মিত্র বনু যুরায়েক গোত্রের লাবীদ বিন আ‘সাম নামক জনৈক মুনাফিক। তিনি তার মেয়েদের মাধ্যমে জাদু করেন। প্রথমে তিনি রাসুলুল্লাহর (সা.) বাসার কাজের ছেলের মাধ্যমে কয়েকটি চুলসহ রাসুলুল্লাহর (সা.) ব্যবহৃত চিরুনিটি সংগ্রহ করেন এবং নিজের মেয়েদের মাধ্যমে ওই চুলে ১১টি জাদুর ফুঁক দিয়ে ১১টি গিঁট দেন ও সেগুলোর মধ্যে ১১টি সুঁচ ঢুকিয়ে দেয়। তারপর চুল ও সুঁচসমেত চিরুনিটি একটি খেজুরের শুকনা কাঁদির আবরণীর মধ্যে ঢুকিয়ে যারওয়ান কূপের তলায় একটি বড় পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখেন।
জাদুর প্রভাবে রাসুলুল্লাহর (সা.) স্মৃতি এলেমেলো হয়ে যেতে থাকে। পরে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে জাদু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন শায়খ আহমাদুল্লাহ / কালো জাদুর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায়রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর জাদু করার ঘটনা বর্ণনা করে আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর জাদু করা হয়। জাদুর প্রভাবে তার মনে হতো তিনি কোনো কাজ করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। অবশেষে এক দিন তিনি যখন আমার কাছে ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট বার বার দোয়া করলেন। তারপর ঘুম থেকে জেগে বলেন, আয়েশা! তুমি কি বুঝতে পেরেছ আমি যে বিষয় তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেটি কী?
Advertisement
রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমার নিকট দুইজন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার নিকট এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। তারপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করলেন এই লোকটির কী ব্যাথা? তিনি উত্তর দিলেন, তাকে জাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেন, কে তাকে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেন, যুরায়ক গোত্রের লাবীদ ইবনু আসম নামক ইয়াহুদী।
প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেন, যাদু কিসের দ্বারা করা হয়েছে? দ্বিতীয়জন বললেন, চিরুনি, চিরুনি আঁচড়াবার সময়ে উঠে আসা চুল ও নর খেজুর গাছের কাঁদির খোসার মধ্যে। প্রথমজন জিজ্ঞাসা করলেন, তা কোথায়? দ্বিতীয় জন বললেন, যারওয়ান নামক কূপে।
এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাহাবিদের কয়েকজনকে নিয়ে ওই কূপটি থেকে জাদুর সরঞ্জাম বের করলেন। কূপের পাশে ছিল একটি খেজুর গাছ।
আরও পড়ুন মুফতি ইসমাইল মেন্ক / স্ত্রীদের সঙ্গে নবীজির (সা.) আচরণ বনাম আমাদের আচরণতারপর ফিরে এসে নবীজি (সা.) বললেন, কূপটির পানি মেহদি মিশ্রিত পানির তলানির মত ছিল। আর পাশের খেজুর গাছের মাথাও শয়তানের মাথার মত। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি জাদুকর লোকটিকে শাস্তি দেবেন না? তিনি বললেন, না আল্লাহ আমাকে আরোগ্য ও শেফা দান করেছেন, লোকদের মধ্যে মন্দ ছড়িয়ে পড়ুক এটা আমি চাই না।
Advertisement
তারপর নবীজি (সা.) জাদুর জিনিসপত্রগুলো পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ৫৩৫৪)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আলী, জুবায়ের ও আম্মার ইবনে ইয়াসিরসহ একদল সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে কূপ সেঁচে পাথরের নীচ থেকে খেজুরের কাঁদির খোসাসহ চিরুনিটি বের করে আনেন। ওই সময় সুরা ফালাক ও নাস নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা ফালাক ও নাস তিলাওয়াত করেন। দুটি সুরার ১১টি আয়াতের প্রতিটি পাঠ করা শেষে এক একটি গিঁট খুলতে থাকেন। সব গিঁট খুলে গেলে তিনি স্বস্তি লাভ করেন।
আরও পড়ুন নবীজির (সা.) শেষ জান্নাতুল বাকি জিয়ারত, কী ঘটেছিল সেই রাতে?ওএফএফ