উম্মে চৈত্রিকা
Advertisement
নবীন লেখক রুদ্র মুহম্মদ জাহিদুল তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অপূর্ণ মায়া’তে তুলে এনেছেন সমুদ্রপাড়ের জীবনের এক নিভৃত, তবুও ঝড়-ঝাপ্টাময় বাস্তবতার গল্প। নামের মতোই উপন্যাসটি অপূর্ণতার বেদনাকে ছুঁয়ে যায়। সেই সঙ্গে জীবন, সংগ্রাম, বন্ধন আর মানবিক আবেগের গভীরতাকেও লেখক নতুনভাবে অনুভব করায়।
গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটাভাবে, শান্ত—ভালো লাগা, বন্ধুত্ব আর স্বচ্ছ অনুভূতির টানাপোড়েনে। শেষাংশে এসে লেখক এমন এক টুইস্ট উপহার দেন, যা পুরো কাহিনিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলে। অপূর্ণ মায়া শুধু প্রেম কিংবা বিচ্ছেদের উপন্যাস নয়; বরং জেলেদের জীবনসংগ্রাম, ধীবরদের সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি, ঝড়ে প্রাণ হারানো মানুষের আর্তি, এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে কারাবন্দি হওয়া অসংখ্য জেলের করুণ বাস্তবতা—এসবই উপন্যাসে উঠে এসেছে স্বচ্ছভাবে।
আরও পড়ুন বই আলোচনা / শেষ: মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগময় উপন্যাসউপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুহাস ও স্নেহা—যারা একে অপরকে ভালোবাসলেও ভাগ্যের চক্রে তারা এক হতে পারে না। পরিবারের চাপে স্নেহার বিয়ে হয়ে যায় জেলে রূপকের সঙ্গে। রূপকের জীবনও নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়—ভয়ংকর ঝড়ে নৌকাডুবি, এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হওয়া। সেই কারাগারেই তার দেখা মেলে স্নেহার বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া বাবার সঙ্গে, যিনি একইভাবে ঝড়ের কবলে পড়ে সেই কারাজীবনে আটকে ছিলেন।
Advertisement
চর যমুনার মানুষ যখন রূপক ও স্নেহার বাবাকে মৃত ধরে নিয়ে স্নেহার বিয়ে সুহাসের সঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে; তখনই গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে। তাহলে কি উন্মাদপ্রায় সুহাস সত্যিই তার স্বপ্নের স্নেহাকে ফিরে পায়? রূপক ও স্নেহার বাবা কি অবশেষে ফিরে আসে চর যমুনার আপন মানুষের কাছে?
আরও পড়ুন বই আলোচনা / অকায়শাস্ত্র: আপন সত্তার অনুভূতিএ গল্পে বাংলাদেশ পুলিশেরও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে অপূর্ণ মায়া—সমুদ্রতীরের মানুষদের ব্যথা, টানাপোড়েন আর ভালোবাসায় সিক্ত অনন্য গল্প।
লেখক এত স্যাড এন্ডিং না দিলেও পারতেন। এত কিছুর পরে সুহাস একটু সুখের দেখা পেল। তা-ও লেখকের সহ্য হলো না! যাই হোক, নতুন লেখক হিসেবে রুদ্র মুহম্মদ জাহিদুলের লেখার হাত যথেষ্ট ভালো। ভবিষ্যতে আরও ভালো করবেন বলে আশাবাদী। আমি বইটির বহুল পাঠ ও প্রচার কামনা করছি।
বই: অপূর্ণ মায়ালেখক: রুদ্র মুহম্মদ জাহিদুলপ্রকাশনী: নবকথনমূল্য: ৩২০ টাকা।
Advertisement
এসইউ