মতামত

রাষ্ট্রপতির পদ: মর্যাদার আসন, নাকি রাজনৈতিক একাকিত্বের শেষ ঠিকানা?

বঙ্গভবনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রপতিরা প্রবেশ করেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রত্যাশার বিপুল ভার কাঁধে নিয়ে। শপথের দিন তাঁদের সামনে থাকে জাতীয় পতাকা, সামরিক স্যালুট, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার। কিন্তু সেই একই বঙ্গভবনের দরজা দিয়ে বিদায়ের সময় দৃশ্যটি অনেক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেউ বিদায় নেন নীরবে, কেউ অপমানের ভার নিয়ে, কেউ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ বিদায়বেলা সংবর্ধনাটুকুও পান না।

Advertisement

মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় সেই দীর্ঘ ইতিহাসেরই আরেকটি অধ্যায়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার খবরেই দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা বিস্মিত হয়েছিলেন। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম তখন রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল না। অথচ হঠাৎ করেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হন। তিন বছর তিন মাস পর তাঁর বিদায়ও হলো তেমনি আলোচিত, বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাঁকে পদ ছাড়তে হলো।

এই ঘটনা আমাদের একটি পুরোনো প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি আসলে কী? সংবিধানের চোখে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। রাষ্ট্রীয় সব কার্যক্রম তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। আইন প্রণয়নের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন তিনি, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান করেন, জাতীয় সংকটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। রাষ্ট্রের প্রতীকী মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তাঁর অবস্থান অনস্বীকার্য। কিন্তু বাস্তব ক্ষমতার কাঠামোতে রাষ্ট্রপতির অবস্থান অনেকটাই ভিন্ন।

সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাই রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে সর্বোচ্চ মর্যাদার, অন্যদিকে বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার বিচারে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই বৈপরীত্যই সম্ভবত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের রাজনৈতিক একাকিত্বের মূল কারণ।

Advertisement

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একবার তিক্ত রসিকতায় বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির কাজ যেন ‘মিলাদ পড়া ও কবর জিয়ারত’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কথাটি নিছক ব্যক্তিগত হতাশা ছিল না; এর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের সাংবিধানিক বাস্তবতার একটি গভীর সমালোচনা ছিল। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। তিনি জাতির প্রতীক, কিন্তু নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র নন। তিনি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসেন, কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে থাকেন। এখানেই তৈরি হয় এক অদ্ভুত রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে। সংসদে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে নির্বাচন প্রায় আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তাঁর ওপর একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাপ থাকে। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে হতে হয় সমগ্র রাষ্ট্রের প্রতীক। এখানেই মৌলিক দ্বন্দ্ব—দলীয় মনোনয়ন থেকে রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার যাত্রা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দ্বন্দ্বের পরিণতি খুব সুখকর নয়। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার শিকার হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও হত্যার শিকার হয়েছেন। বিচারপতি আবদুস সাত্তার ক্ষমতা হারিয়েছেন সামরিক অভ্যুত্থানে। এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণতন্ত্রের উত্তরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেও পরে রাজনৈতিক বিরোধের তিক্ততা থেকে মুক্তি পাননি। রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপি সরকারের সঙ্গে বিরোধে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর সাম্প্রতিক সময়ে মো. সাহাবুদ্দিনও বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন ছাড়লেন।

রাষ্ট্রপতির পদে যিনি বসবেন, তাঁকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকেও বুঝতে হবে—রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক দলের পুরস্কার নয়; এটি জনগণের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতিকে যদি সত্যিই রাষ্ট্রের প্রতীক করা হয়, তবে তাঁর নির্বাচন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে।

Advertisement

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের বিদায়-ইতিহাস যেন বলে—এই পদে প্রবেশের চেয়ে বেরিয়ে আসাই অনেক সময় কঠিন। একজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় সরকার ও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকলে তিনি সম্মানিত, গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপদ। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেই রাষ্ট্রপতির অবস্থানও বদলে যায়। যে দল তাঁকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছে, সেই দলই কখনো কখনো তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। যে রাজনৈতিক শক্তি তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকে, বিদায়ের সময় তারাই হয়তো অনুপস্থিত থাকে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদায় ছিল এই ইতিহাসে বিরল ব্যতিক্রম। দুই মেয়াদ মিলিয়ে ১০ বছর ৪১ দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকার পর তিনি বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় নেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন আনুষ্ঠানিক বিদায় খুব বেশি দেখা যায়নি। এর আগে রাষ্ট্রপতি এরশাদ কিংবা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বিদায় সংবর্ধনা পাননি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধ এতটাই তীব্র ছিল যে, তাঁর বিদায়ও হয়ে উঠেছিল বিষণ্ন।

প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রপতির বিদায় কেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মনোভাবের ওপর এতটা নির্ভরশীল হবে? একজন রাষ্ট্রপতি যখন পদে থাকেন, তখন তিনি কেবল কোনো দলের মনোনীত ব্যক্তি নন। তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর সিদ্ধান্তের সমালোচনা হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রতিহিংসার উপকরণে পরিণত করা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতিজীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে তাঁর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তাঁকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক পরিচয় ও বিতর্ক নিয়ে তাঁর রাষ্ট্রপতিজীবন শুরু হয়েছিল, সেই বিতর্কই যেন তাঁর বিদায়ের সঙ্গী হলো।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা, রাজনৈতিক অতীত বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সমালোচনা এক বিষয়; আর রাষ্ট্রপতি পদটির সাংবিধানিক মর্যাদা ও কাঠামোগত দুর্বলতা আরেক বিষয়। ব্যক্তি বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না, যদি প্রতিষ্ঠানটি একই রকম থাকে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একজন আনুগত্যশীল প্রবীণ ব্যক্তির জন্য ‘সম্মানজনক অবসর’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এই ধারণাটিই পদটির মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাষ্ট্রপতি যেন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবক নন, বরং ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্য—এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শুধু আনুষ্ঠানিক হওয়া উচিত নয়। তিনি সরকারের বিকল্প নির্বাহী নন, কিন্তু রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হতে পারেন। জাতীয় সংকটে তাঁর নিরপেক্ষ অবস্থান, সাংবিধানিক পরামর্শ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নৈতিক সমর্থন—এসবই রাষ্ট্রপতির ভূমিকার অংশ হতে পারে।

ভারত ও পাকিস্তানের মতো সংসদীয় ব্যবস্থার দেশেও রাষ্ট্রপতির কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক মর্যাদা রয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে কেবল ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয় না। দলীয় পরিচয় থাকলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বৃহত্তর রাষ্ট্রের প্রতীক হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদেও এমন একটি সাংবিধানিক সংস্কৃতি প্রয়োজন।

প্রশ্নটি তাই শুধু মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় নিয়ে নয়। প্রশ্নটি আরও বড়: আমরা রাষ্ট্রপতি পদটিকে কীভাবে দেখি?

যদি রাষ্ট্রপতিকে আমরা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অনুগত হিসেবে দেখি, তাহলে তাঁর বিদায়ও হবে রাজনৈতিক আনুগত্যের হিসাব-নিকাশে। আজ তিনি প্রিয়, কাল তিনি অপ্রিয়। আজ তাঁর ছবি সরকারি ভবনে, কাল তা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজ তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত, কাল তাঁর বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য। আজ তাঁর কাছে সবাই যাচ্ছে, কাল তাঁকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। এভাবে রাষ্ট্রপতি পদটি ব্যক্তির মর্যাদা হারায়, প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়।

রাষ্ট্রপতির পদে যিনি বসবেন, তাঁকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকেও বুঝতে হবে—রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক দলের পুরস্কার নয়; এটি জনগণের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতিকে যদি সত্যিই রাষ্ট্রের প্রতীক করা হয়, তবে তাঁর নির্বাচন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, গণতন্ত্রে ক্ষমতার পালাবদল স্বাভাবিক। সরকার আসে, সরকার যায়। প্রধানমন্ত্রী বদলান, মন্ত্রিসভা বদলায়। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রতিবার রাজনৈতিক ঝড়ের সঙ্গে ভেঙে না পড়ে—সেটিই গণতন্ত্রের মূল পরীক্ষা।

বঙ্গভবনের ইতিহাস আমাদের সেই পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতার কথা বলে।

রাষ্ট্রপতিরা আসেন রাষ্ট্রীয় সম্মানে। কিন্তু তাঁরা বিদায় নেন অনেক সময় রাজনৈতিক একাকিত্বে। কেউ অপমানিত হয়ে, কেউ বিতর্কিত হয়ে, কেউ নীরবে, কেউ হত্যার শিকার হয়ে। অথচ রাষ্ট্রপতির বিদায় হওয়া উচিত ছিল একটি সাংবিধানিক অধ্যায়ের স্বাভাবিক সমাপ্তি—ব্যক্তিগত অপমান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ক্ষমতার প্রতিশোধের দৃশ্য নয়।

মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় তাই শুধু একজন রাষ্ট্রপতির বিদায় নয়। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের দীর্ঘ অম্লমধুর ইতিহাসের আরেকটি পৃষ্ঠা। প্রশ্নটি এখন আমাদেরই করতে হবে—রাষ্ট্রপতির পদ কি সত্যিই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসন, নাকি ক্ষমতার রাজনীতিতে ব্যবহৃত হয়ে শেষে রাজনৈতিক একাকিত্বের শেষ ঠিকানা?

যত দিন না আমরা এই প্রশ্নের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উত্তর খুঁজে পাচ্ছি, তত দিন বঙ্গভবনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রপতিরা আসবেন। রাষ্ট্রীয় স্যালুটে। ফুলের শুভেচ্ছায়। আনুষ্ঠানিক জাঁকজমকে। আর বিদায়ের সময় ইতিহাস আবারও নীরবে প্রশ্ন করবে—এই মানুষটি কি রাষ্ট্রপতি ছিলেন, নাকি কেবল একটি সরকারের রাষ্ট্রপতি?

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম