ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
Advertisement
শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতাররা হলেন, বাসের হেলপার মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০), চালক মো. ইমরান (৩৫) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামানিক (৩০)।
আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, শনিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল (২৭)।
Advertisement
নবীনগর পৌঁছানোর আগেই বাসের অন্যান্য যাত্রীরা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তার সহযোগী জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। পরে ইমরান ভুক্তভোগী নারীর পরিচিত রুবেলকে মারধর করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেন।
পরে রুবেল বাস থেকে নেমে যান। এ সময় বাসে ভুক্তভোগী ওই নারী, বাস চালকের পূর্বপরিচিত সুমন প্রামানিক এবং জনি বাসে ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, পরে সুমনের সহায়তায় জনি চলন্ত বাসে ভুক্তভোগী নারীকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় ভুক্তভোগী নারী চিৎকার করেন। বাস থেকে নেমে রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অপর একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে সাভার পরিবহনের ওই বাসটি থামান। পরে বাস থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারসহ জনি ও সুমনকে বাসসহ আটক করেন। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।
Advertisement
রোববার দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ দুজনকে আটক করে। পরে রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর অভিযানে রাড়ইপাড়া এলাকা থেকে থেকে আসামি ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।
মাহফুজুর রহমান নিপু/কেজে/জেআইএম