কৃষি ও প্রকৃতি

পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু, এক যুগে তিনি ৫০০ পশুর বিশাল খামারের মালিক

মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হয় এই খামারের। ধীরে ধীরে খামার বড় হতে থাকে; এখন ৩ শতাধিক গরু রয়েছে এখানে। পাশাপাশি ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে ৫০০ পশু আছে খামারটিতে। এবারের ঈদুল আজহায় বিক্রি হয়েছে দুই শতাধিক গরু-মহিষ। বলছিলাম চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী বেড়িবাধের পাশে গড়ে ওঠা খামার আরবিসি এগ্রো টুরিজম লিমিটেডের কথা।

Advertisement

জানা গেছে, এক যুগ আগে মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন ওই এলাকার বাসিন্দা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকেন, ১০টি, ২৫টি করে এখন তিন শতাধিক গরু রয়েছে খামারে। শুধু গরু নয়, খামারে রয়েছে মহিষ, ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কবুতর। মাছ চাষের জন্য পুকুরও রয়েছে। এবারের ঈদুল আজহায় গরুর পাশপাশি ২৫টি মহিষ বিক্রি করেছেন। ২২ একর জায়গা নিয়ে খামারের পরিধি। গরু, মহিষ সহ বিভিন্ন পশুর জন্য নিজের জমিতে চাষ করা নেফিয়ার ঘাস ও ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। তার সঙ্গে প্রায় ৩ একর জমিতে চাষ করা ধানের খড়ও খাওয়ানো হয় খামারের পশুদের।

আরও পড়ুন পরিবেশের বন্ধু লজ্জাবতী বানর হারিয়ে যাচ্ছে

সরেজমিনে আরবিসি এগ্রো টুরিজমে গিয়ে দেখা গেছে, খামারে গরুগুলো পরিচর্চা করেছেন খামারের একাধিক কর্মচারী। ছোট গরুগুলো একসঙ্গে রাখা হলেও বড় গরুগুলো আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। মহিষগুলো আলাদা রাখা হয়। কর্মচারীরা কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কেউ খাবার দিচ্ছে, আবার কেউ ময়লা পরিষ্কার করছে।

আরবিসি এগ্রো খামারের ম্যানেজার রাশেদ নুর জাগো নিউজকে বলেন,‘আমাদের খামারের ৫টি গরু দিয়ে যাত্রা হয়েছিল। এখন গরু মহিষ-ছাগল মিলে প্রায় ৫০০ রয়েছে। শাহীওয়াল, জার্সি, ভুট্টি, হাঁসা জাতের গরু রয়েছে।’

Advertisement

খামারের স্বত্বাধিকারী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১২ সালে ৫টি গরু নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেছি। এরপর ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকি। গরুর পাশাপাশি ছাগল, মহিষ, ভেড়া পালন শুরু করেছি। এখন খামারে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ প্রায় ৫ শতাধিক পশু রয়েছে। খামারে স্থায়ী, অস্থায়ী প্রায় ১৫ জন লোক কাজ করেন। আমাদের নিজের জমিতে উৎপাদিত খাবার খাওয়ানো হয় পশুগুলোকে। বাইরের কোনো খাবার প্রয়োজন হয়না।’

আরও পড়ুন অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের বাঘ

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভ সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় ছোট বড় অনেক খামারি রয়েছে। তার মধ্যে আরবিসি এগ্রো খামার অন্যতম। স্বল্প সংখ্যক গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন এটি উপজেলার অন্যতম একটি বড় খামারে পরিণত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগিতা করা হয়।’

এমএমডি/কেএসকে

Advertisement