আন্তর্জাতিক

“কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার”

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘টুগেদার’ দলের প্রধান নাফতালি বেনেট। সোমবার (২৭ জুলাই) ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কনফারেন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি কাতারকে নিয়ে এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিকে, বেনেটের এই মন্তব্যের আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে কাতার।

Advertisement

নিজের বক্তব্যে কাতারকে তীব্র আক্রমণ করে নাফতালি বেনেট বলেন, কাতার হলো একটি সহিংস ও ইহুদি-বিরোধী ক্যানসার। তারা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পশ্চিমে ও এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত নিজেদের বিষাক্ত প্রভাব বিস্তার করেছে।

বেনেটের মতে, কাতার হলো ইসলামী চরমপন্থি সন্ত্রাসবাদের অন্যতম শীর্ষ অর্থায়নকারী- বিশেষ করে হামাসের প্রধান অর্থদাতা, যাদের হাত গত ৭ অক্টোবরের নৃশংস গণহত্যার সময় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও অপহৃত বহু ইসরায়েলির ‘রক্তে রঞ্জিত’।

বক্তব্যে বেনেট আরও অভিযোগ করেন, কাতার ইসরায়েলকে পুরোপুরি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী একটি প্রভূতির প্রভাব বিস্তারকারী প্রভাব-যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তার দাবি, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার মাধ্যমে দোহা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেয়। আর এই অভিযোগে এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমটিকে ইসরায়েলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Advertisement

বেনেট দৃঢ়তার সাথে বলেন, গত ৭ অক্টোবরের হামলার ওপর যদি একটি সাধারণ তদন্ত কমিশনও গঠন করা হতো, তবে তার দলের প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি হতো এটাই। কাতার একটি শত্রু রাষ্ট্র ও এটির নেতারা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত কাতারের

অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের এই কড়া বক্তব্যের বিপরীতে আঞ্চলিক শান্তি ও উত্তাপ কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় রয়েছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ, সৌদি আরবের ফয়সাল বিন ফারহান, আমিরাতের উপ-শাসক তাহনুন বিন জায়েদ ও তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। এসব ফোনালাপে তারা অঞ্চলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সব পক্ষকে অবশ্যই আলোচনা ও কূটনীতির পথ আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক -এর বিধানগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। উল্লেখ্য, এই সমঝোতা স্মারকটিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে যৌথ সমন্বয়ের আহ্বান জানান।

Advertisement

পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে কাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার সমস্ত প্রচেষ্টায় তারা সমর্থন বজায় রাখবে ও এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সামগ্রিক চুক্তিতে পৌঁছাতে কাজ করে যাবে।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, মেহর নিউজ

এসএএইচ