আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের ১২৩ একর জমি দখল, লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

গ্রামের জমি সামরিক সড়ক নির্মাণের জন্য ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে জমি দখল করেছে ইসরায়েল। এই দখলকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ১২৩ একর। এছাড়াও গত শুক্রবার থেকে নাবলুস এলাকায় আটটি নতুন অবৈধ আউটপোস্ট স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা(সেটলার)।

Advertisement

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের আলি আল-তাহের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় ফের গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার ভোর থেকে হামলা শুরু হয় বলে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শনিবার তেল আবিবের কাপলান স্ট্রিটে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।

বামপন্থি হাদাশ (Hadash) পার্টি এবং তাদের মিত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের অবসানের দাবি জানান এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের নিন্দা জানান।

Advertisement

সোমবার (২৭ জুলাই) ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, তুবাস প্রদেশ ও তাইয়াসির গ্রামের জমি সামরিক সড়ক নির্মাণের জন্য জব্দ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরাপত্তা ও সামরিক সড়ক নির্মাণ করতে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত এই জব্দাদেশ কার্যকর থাকবে। মূলত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ব্যবহারের জন্য এ রাস্তা তৈরি করা হবে।

কমিশনের দাবি, এই সামরিক আদেশের ফলে এলাকাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হবে এবং ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব জমিতে প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, শুক্রবার নাবলুসের কাছে তেল শহরে হামলার পর থেকে সেখানে আটটি নতুন অবৈধ বসতি আউটপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুটি নতুন আউটপোস্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর একটি দেইর ইস্তিয়া গ্রামের কাছে এরিয়া বি-তে এবং অন্যটি দেইর বাল্লুত গ্রামের পশ্চিমে এরিয়া সি-তে।

Advertisement

১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী, এরিয়া বি ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে। অন্যদিকে এরিয়া সি পুরোপুরি ইসরায়েলের বেসামরিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন। পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ, অধিকৃত অঞ্চলকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে জাতিসংঘ। তাই এসব অঞ্চলে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাদের সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীরা নাবলুসের কাছে তেল শহরে হামলা চালালে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই সংঘর্ষে দুই ইসরায়েলিও নিহত হন বলে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত এক হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং প্রায় ২৪ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৯১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৮৫৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৩ জন নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩১৭ জনে পৌঁছেছে।

কেএম