ইতালির মিলান আদালতে চলমান বিচ্ছেদ মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দি। সাবেক স্ত্রী ওয়ান্ডা নারার মাসিক প্রায় ৪ লাখ ইউরো ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণের দাবি আদালত আবারও খারিজ করে দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের বিজয় উদযাপন করেন ইকার্দি। তবে বেশিক্ষণ নীরব থাকেননি ওয়ান্ডা। ইনস্টাগ্রামে একের পর এক কড়া বার্তায় তিনি দাবি করেন, আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখনও শেষ হয়নি এবং ইকার্দিকে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান।
Advertisement
ইতালির আদালতের সর্বশেষ রায়ে ওয়ান্ডা নারার করা আপিলও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ইকার্দির ভাষায়, ‘সব ধরনের দাবি ও আইনি পথ এখন বন্ধ।’ মিলান থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার সাবেক স্ত্রীর জন্য মাসে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো, দুই মেয়ের জন্য প্রত্যেকের ৬৫ হাজার ইউরো এবং বিচ্ছেদজনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাসে ১ লাখ ইউরো দাবি করা হয়েছিল (বাংলাদেশি টাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা)। ২০২৬ সালের ১ জুন বিচারক এই পাগলামি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। আজ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আপিলও অকার্যকর। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণাই বাকি।’
ইতালির বিচারব্যবস্থার প্রশংসা করে ইকার্দি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে ইতালিতে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় আমাকে অনেকে পাগল বলেছিল। কিন্তু আজকের সিদ্ধান্তই সবকিছুর উত্তর।’
রায়ের পর আরেকটি পোস্টে নিজেকে দাবার বোর্ডের ‘রাজা’ হিসেবে দেখিয়ে ইকার্দি লেখেন, ‘রাজা কখনও গুটির সঙ্গে তর্ক করে না; সে শুধু সামনে এগিয়ে যায়। বোর্ড উল্টে দেওয়ার চেষ্টা কোরো না, খেলার শেষটা এখনও দেখা বাকি।’
Advertisement
তবে ইকার্দির এই উদযাপনের জবাবও দ্রুত দিয়েছেন ওয়ান্ডা নারা।
ইনস্টাগ্রামে তিনি দাবি করেন, আদালত কেবল জানিয়েছে যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রায় ঘোষণার আগে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা যাবে না। তাই বিষয়টি এখনও শেষ হয়নি। ওয়ান্ডা লিখেছেন, ‘আজ ইতালির আদালত বলেছে, চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রায় আগে হবে, তারপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। এটাই স্বাভাবিক। আমার কাজ আছে, কিন্তু অন্য পক্ষের নেই।’
এরপর সরাসরি ইকার্দিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘শোনো, একটা কাজ খুঁজে নাও। ছুটিতে বসে আমাকে নিয়ে ভাবার বদলে নিজের মেয়েদের কথা ভাবো’
তিনি অভিযোগ করেন, ইকার্দি তাদের দুই মেয়ে ফ্রান্সেসকা ও ইসাবেলার পাসপোর্ট আটকে রেখেছেন, যার কারণে তারা আর্জেন্টিনায় ফিরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে পারছে না।
Advertisement
ওয়ান্ডার ভাষায়, ‘স্কুল ৩ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে। ওরা শুধু নিজেদের বাড়িতে ফিরে স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিজের সন্তানদের এত কষ্ট দেওয়া এবং তাদের মানসিকভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিচারব্যবস্থা ছুটির মধ্যেও শিশুদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের সন্তানদের জন্য আরও কষ্ট, আরও সহিংসতা এবং আরও যন্ত্রণা তৈরি করে চলেছেন।’
২০২৪ সালে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পর থেকেই ইকার্দি ও ওয়ান্ডার মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। ভরণপোষণ, ক্ষতিপূরণ এবং দুই মেয়ের অভিভাবকত্ব, সবকিছু নিয়েই আদালতে মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। সর্বশেষ রায়ে আপাতত আইনি সুবিধা ইকার্দির দিকে গেলেও, ওয়ান্ডার বক্তব্য অনুযায়ী চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রায় ঘোষণার পর আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই তিক্ত দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আরআর/আইএন