ভ্রমণ

কালকিনির যে মসজিদের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারের বাইতুর রাইয়ান মসজিদের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই পরিবার নিয়ে মসজিদটি দেখতে আসেন। একসাথে এই মসজিদে আড়াই শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদের সৌন্দর্য ও পরিচিতি দিনদিন জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে এর সৌন্দর্যের জন্য ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতা ‘গ্লোবাল ডিএনএ প্যারিস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে। এরপর থেকে মসজিদটির পরিচিতি ও সুনাম বেড়ে যায়।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে ৪৬৪ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত হয় বাইতুল রাইয়ান মসজিদটি। মসজিদের প্রধান আকর্ষণ চারটি টাওয়ার। যা দেখলে যে কারো চোখ আটকে যাবে। সেই সাথে ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই বিশাল খিলান আকৃতির দরজা দর্শনার্থীদের আরও বেশি মুগ্ধ করে। একসাথে এ মসজিদে প্রায় আড়াইশ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০২৫ সালে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতা গ্লোবাল ডিএনএ প্যারিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। বাংলাদেশি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিউবইনসাইড ডিজাইন লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রধান স্থপতি খন্দকার আসিফুজ্জামান রাজন এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। এর কারুকার্য এবং নান্দনিক সৌন্দর্য পুরস্কৃত হওয়ায় মুসল্লিসহ খুশি দর্শনার্থীরা।

মসজিদের স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার জন্য লাল ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া মেঝেতে মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়। গম্বুজটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন তা ভেসে থাকে এবং এর মধ্য দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো ভেতরে প্রবেশ করে। এতে মসজিদের সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গরমের মৌসুমে ভেতরের চারপাশ ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা আছে। এ ছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে নির্মাণ হওয়ায় মসজিদের সৌন্দর্য আরও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। দিনের বেলায় একরকম সৌন্দর্য আর রাতের বেলায় ভিন্ন রকম সৌন্দর্য দেখা যায়। তাই শুক্রবার জুমার দিনে উপজেলা শহর, গ্রাম ও জেলার বাহির থেকেও মুসল্লিরা এসে নামাজ আদায় করেন। সৌন্দর্য দেখতে বিকেলবেলা ও রাতে মানুষ আসে।

আরও পড়ুন লালবাগ দুর্গ সাড়ে তিনশ বছরের অসমাপ্ত গল্প

নামাজ পড়তে আসা কাওসার বেপারী বলেন, ‘আমাদের মসজিদটির সৌন্দর্য একটু আলাদা, একটু অন্যরকম। জেলার অন্য মসজিদ থেকে দেখতে অনেকটা ব্যতিক্রম। এর কারুকার্যও ব্যতিক্রম। মসজিদের ভেতরে কোনো লাইট ছাড়া আলো প্রবেশ করে। যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। তাই মসজিদটি দেখেতে অনেকেই এখানে ছুটে আসেন।’

Advertisement

আরেক মুসল্লি জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, ‘এই মসজিদ দেখতে খুব সুন্দর। তাই নিজ উপজেলাসহ জেলা ও আশপাশে এর পরিচিত বাড়ছে। তাছাড়া গ্লোবাল ডিএনএ প্যারিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। এই মসজিদের জন্য উপজেলাবাসীও গর্বিত।’

মসজিদ দেখতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাসা ডাসার উপজেলায়। কিন্তু মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসি। তবে আজ এসেছি পরিবার নিয়ে। পাশেই আড়িয়াল খাঁ নদ। নদের পাড়ে একটু হাঁটাহাঁটি হলো, পাশাপাশি মসজিদটাও দেখানো হলো।’

আরও পড়ুন ঢাকার দুই আউলিয়া ও একটি মসজিদের আদি পরিচয়

মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আব্দুল্লাহ আল মাহের বলেন, ‘মসজিদটি দেখতে খুব সুন্দর। মসজিদের ব্যতিক্রম সৌন্দর্য আছে। তাই খুব অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক একটি পুরস্কার পেয়েছে। যা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। এই মসজিদ দেখতে দূর থেকে মুসল্লিসহ মানুষজন আসেন।’

মসজিদের ইমাম মুফতি আবু হোসাইন ফরিদি বলেন, ‘সারাদেশে এত সুন্দর দৃষ্টিনন্দন মসজিদ খুব কমই আছে। মসজিদের ভেতরে কখনোই গরম লাগে না। এককথায় মসজিদটি অসাধারণ। যে কারো দৃষ্টি আটকে যাবে এই মসজিদের সৌন্দর্য দেখে।’

Advertisement

এওয়াইএসএ/এসইউ