দেশজুড়ে

রাঙ্গামাটিতে বন্যায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

সাম্প্রতিক সময়ে (৬ -১২ জুলাই) সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় রাঙ্গামাটির কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল বিলীন হয়েছে বন্যার পানিতে। রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগ বলছে, বন্যায় কৃষিতে ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটির তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রাঙ্গামাটি জেলায় ৫৩ হাজার ৭৬৬ হেক্টর আবাদকৃত কৃষি জমির ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল আউশ ৬৯৯ হেক্টর, স্থানীয় আউশ ৪৬১ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ১ হাজার ১৩৬ হেক্টর, আদা ৪২২ হেক্টর, হলুদ ৩৪৪ হেক্টর, আমন (বীজতলা) ২০৩ হেক্টর এবং ৪১০ হেক্টর জমির উদ্যান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলাতে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন ও বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়ন, বাঘাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার অনেক নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়।

বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের জাঙ্গেয়েছড়া গ্রামের বাসিন্দা জগতময় চাকমা বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পুঁজি খরচ করে ২ বিঘা জমিতে ৮৭২ টি পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। গাছে ভালো ফলনও হয়েছে। প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার কেজি পেঁপে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

Advertisement

আরও পড়ুন কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাড়লো আরও ১০ দিন

কিন্তু এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পেঁপে বাগানটি ডুবে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। বাগান থেকে পানি নেমে গেলেও এখন পেঁপে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ফলগুলো ঝরে পড়ছে। এতে আমার প্রায় ৮ হতে ৯ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বৃষ্টিতে আমার বাগানের প্রায় ৮০ শতক জমির মাটি ধসে পড়েছে। এতে আমার শতাধিক ড্রাগন চারা, বরই ১০০ ও আনারসের ১ হাজার চারা মাটি চাপা পড়ে ক্ষতি হয়েছে। এতে আমার প্রায় আর্থিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটির উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বন্যায় কৃষিখাতে রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় মোট ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। জেলায় কৃষিখাতে ৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আবু দারদা খান আরমান/এনএইচআর/জেআইএম

Advertisement