জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুয়ামোতো প্রদেশে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্প। ফলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেল চলাচল। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা ও আফটারশকের আশঙ্কা।
Advertisement
জাপান আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর এক মিটার বা তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূকম্পনের পর জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন কোন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা সবচেয়ে বেশি?জাপান সরকারের পক্ষ থেকে কুয়ামোতো ছাড়াও নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকিা প্রিফেকচারে জরুরি ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকার বিভিন্ন শহরে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
কুয়ামোতো সিটির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত উকি সিটিতে ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই ঝাঁকুনিতে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
Advertisement
কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু বুলেট ট্রেনসহ সব ধরনের রেল সেবা স্থগিত করেছে।
আরও পড়ুন ভূমিকম্পের পর ‘আফটারশক’ কেন হয়, কতবার হতে পারে?ভূমিকম্পের পথেই রয়েছে সনি এবং টিএসএমসির মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কারখানা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সমপরিমাণ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের আশঙ্কা মাথায় রেখে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন ফ্যাক্ট চেক / ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া কি সত্যিই সম্ভব?ঠিক এক দশক আগে কুয়ামোতোতে দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভয়াবহ দুর্যোগে ২৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং আহত হয়েছিলেন প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ।
Advertisement
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/