দেশজুড়ে

ফেনী নদীতে জব্দ সোয়া দুই লাখ ঘনফুট বালু গায়েব

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদীর তীরে সরকারিভাবে জব্দ করা সোয়া দুই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্তে এ বিপুল পরিমাণ বালু লোপাটের তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisement

চুরি হওয়া এই বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। ঘটনাটি নিয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশনার পর ফেনী নদীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় সরকারিভাবে জব্দকৃত বালুর সঠিক পরিমাপের দায়িত্ব পান উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১৭০টি স্তূপে মোট ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৭ ঘনফুট বালু রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তবে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পুনরায় সরেজমিনে পরিমাপ করা হলে আগের পরিমাপের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। দ্বিতীয়বারের পরিমাপে দেখা যায়, স্তূপগুলো থেকে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০ ঘনফুট বালু কম রয়েছে। প্রতি ঘনফুট বালুর আনুমানিক দর ৩০ টাকা হিসেবে, লোপাট হওয়া বালুর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা।

Advertisement

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতপরিচয় চক্র সরকারি এই বালু চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে ছাগলনাইয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পংকজ দাস বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৭৯/৩৪ ধারায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে, সম্প্রতি শুভপুর ঘাট এলাকা থেকে চোরাই বালুবোঝাই তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে ছাগলনাইয়া থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে ২৬ জুলাই মধ্যরাতে জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে বালু চুরির সময় আরও দুটি ট্রাকসহ দুই চালককে আটক করে। এসব ঘটনায় পৃথক মামলায় শাহাবুদ্দিন, ফজলুল করিম ও মমিনুল হক নামের তিন ট্রাকচালককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চোরাই বালু উদ্ধারের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর মেহেদী জানান, প্রাথমিক তদন্তে সোয়া দুই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত এবং নিখোঁজ বালুর প্রকৃত পরিমাণ কত, তা তদন্ত শেষেই নিশ্চিত করা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী নদীর সরকারি বালুর নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এলাকার রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। যাতে বিএনপির এক নেতাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির এক নেতার ওপর হামলার ঘটনাতেও থানায় পৃথক মামলা হয়েছে এবং চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Advertisement

সরকারি বালু চুরির মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, ‘বালু চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি এখন পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত চলাকালীন এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, শুধু ট্রাকচালকদের গ্রেফতার করে এই অপরাধের বিচার সম্ভব নয়। পুরো চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে বালু ঘিরে এলাকা জুড়ে চলা রাজনৈতিক সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান তারা।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেজে/এএসএম