দেশজুড়ে

চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই পরিবারের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলাটি করেন উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন মণ্ডল। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন, এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৫)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।

মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছরেরও বেশি সময় আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন।

Advertisement

এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে শুরুতে বিরোধ দেখা দিলেও পরে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেনি মেয়েটির পরিবার। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তার একটি ছয় মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ওই পুরোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনামুল হক এনা, মো. রিয়াজসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন ওই পরিবারের বাড়িতে যান। এ সময় তারা নিজেদের সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

মামলার বাদী রতন মণ্ডলের অভিযোগ, এনামুল হক নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের বলেন, ‘মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’

পরে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরের এক দোকানির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করে এনে এনামুল হকের হাতে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

তবে চাঁদা দাবি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক এনা। তিনি বাসসের সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন, ‘একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে ছাড়াই তাদের বাড়িতে রেখেছেন এবং ওই নারী সন্তান প্রসব করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে মানবকণ্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন ছিলেন। তবে চাঁদা দাবি বা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম