এক সময় মেকআপ আর স্কিনকেয়ার ছিল সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ধাপ। আগে ত্বকের যত্ন নিতে আলাদা পণ্য, আর সাজগোজের জন্য আলাদা প্রসাধনী ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন সেই সীমারেখা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক সৌন্দর্যচর্চায় শুধু নিখুঁত মেকআপ নয়, সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ত্বকই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাইব্রিড মেকআপ-যেখানে স্কিনকেয়ার আর মেকআপ একসঙ্গে কাজ করে।
Advertisement
হাইব্রিড মেকআপ হলো এমন এক ধরনের প্রসাধনী, যা একই সঙ্গে ত্বককে সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি তার যত্নও নেয়। অর্থাৎ এটি শুধু ত্বকের দাগ বা অসমান রং ঢেকে দেয় না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকে আর্দ্রতা, পুষ্টি ও সুরক্ষা জোগায়।প্রচলিত ফাউন্ডেশন বা কনসিলারের মতো শুধু কভারেজ নয়, এতে থাকে সিরাম, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিনের উপকারী উপাদান। ফলে একটি পণ্য ব্যবহার করেই সাজ এবং ত্বকের পরিচর্যা-দুই কাজই করা সম্ভব।
কম সময়ে সুন্দর ও সতেজ লুকের জন্য জনপ্রিয় হাইব্রিড মেকআপ
এত জনপ্রিয় হচ্ছে কেনব্যস্ত জীবনে সবাই এমন পণ্য চান, যা সময় বাঁচাবে এবং একসঙ্গে একাধিক সুবিধা দেবে। হাইব্রিড মেকআপ ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করছে।
Advertisement
ভারী মেকআপের পরিবর্তে এটি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর দেখায়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারেও ত্বক শুষ্ক বা ক্লান্ত লাগে না। বরং ত্বক আর্দ্র থাকে এবং মেকআপও অনেক বেশি স্বাভাবিক দেখায়।বিশেষ করে ‘নো-মেকআপ মেকআপ লুক’, ‘গ্লাস স্কিন’ কিংবা ‘স্কিন-ফার্স্ট বিউটি’ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পর হাইব্রিড মেকআপের চাহিদা আরও বেড়েছে।
কয়েকটি সহজ ধাপেই সম্পূর্ণ হাইব্রিড মেকআপ লুক
যেসব উপাদানগুলো থাকে হাইব্রিড মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্কিনকেয়ার উপাদান। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বককে টানটান দেখায়। নিয়াসিনামাইড ত্বকের দাগছোপ কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসপিএফ বা সানস্ক্রিন উপাদান সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয় এছাড়া পেপটাইড, সেরামাইড, স্কোয়ালেন, অ্যালোভেরা ও শিয়া বাটারের মতো উপাদান ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার মজবুত করে এবং দীর্ঘ সময় ত্বক নরম রাখে। যেভাবে ব্যবহার করবেনহাইব্রিড মেকআপ ব্যবহার করা খুবই সহজ। প্রথমে মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এরপর চাইলে হালকা টোনার বা ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে পারেন, যাতে ত্বক সতেজ থাকে। এরপর সরাসরি হাইব্রিড ফাউন্ডেশন, বিবি ক্রিম বা টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার পুরো মুখে আলতোভাবে ব্লেন্ড করুন। যেহেতু এসব পণ্যে আগেই ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকে, তাই অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা প্রাইমার বা ভারী ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন হয় না।
আরও পড়ুন আইসক্রিম রঙের ঠোঁটই এখন নতুন বিউটি ট্রেন্ডচোখের নিচে কালচে দাগ বা ব্রণের দাগ থাকলে হাইব্রিড কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক যদি খুব বেশি তৈলাক্ত হয়, তাহলে টি-জোনে সামান্য ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
Advertisement
হাইব্রিড মেকআপে স্কিনকেয়ারের উপাদান থাকলেও এটি শেষ পর্যন্ত একটি মেকআপ পণ্য। তাই সারাদিন ব্যবহার করার পর অবশ্যই সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। প্রথমে অয়েল-বেসড ক্লিনজার বা মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তুলে ফেলুন। এরপর মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে লোমকূপ পরিষ্কার থাকবে এবং ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস বা ত্বকের জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি কমবে।
আরও পড়ুন নারীরা ব্যাগে সব সময় কেন লিপস্টিক রাখেনসৌন্দর্যচর্চার বর্তমান ধারা বলছে, এখন আর কৃত্রিমভাবে নিখুঁত ত্বক দেখানোর সময় নেই। বরং ত্বককে সুস্থ রেখে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। হাইব্রিড মেকআপ সেই দর্শনকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তাই যারা কম সময়ে প্রাকৃতিক, সতেজ এবং স্বাস্থ্যকর লুক চান, তাদের জন্য হাইব্রিড মেকআপ হতে পারে আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম সমাধান।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, নিউজ এইটিন এসএকেওয়াই