জন্ম থেকেই হাত নেই। পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন আয়শা আক্তার। স্বপ্ন ছিল একটা চাকরি পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। অবশেষ স্বপ্নপূরণ হলো তার। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা জন্ম থেকে হাত না থাকা আয়শা আক্তারকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে সেই নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় আয়শাকে নিয়োগপত্র দেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিন একই সময়ে আরও দুজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র দেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন ও নড়াইল সদর উপজেলার হাসমত আলী।
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
Advertisement
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।
আয়শা আক্তারের মতো নীলা খাতুনেরও জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তিনিও পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন নিজের বানানো গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে চড়ালেন ওয়াকিমুলনিয়োগপত্র দেওয়ার সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র দেওয়ার পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানান।
কেএইচ/এমকেআর