২০২৪ সালের ৩০ জুলাই। জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে আছে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের জন্য। সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে দেশজুড়ে আন্দোলনকারীরা বেছে নেন ভিন্ন এক প্রতীকী ভাষা- শোকের কালোর পরিবর্তে লাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে পরিবর্তন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
Advertisement
একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলতে থাকে সহিংসতা, গুলিবর্ষণ ও অভিযান। কেন্দ্রের সেই উত্তাল পরিস্থিতির প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে রাজপথে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক। কেন্দ্রীয় আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাবির এই কর্মসূচি সেদিন ক্যাম্পাসের আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।
জুলাইয়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই ছিল এক গভীর শোক, ক্ষোভ ও প্রতিরোধের দিন। আগের কয়েক দিনের সংঘর্ষে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে নিহত ও আহত হওয়ার খবর তখনও আসছিল। মোহাম্মদপুরের সৈকত, যাত্রাবাড়ীর মেহেদী, উত্তরার নাঈমা সুলতানাসহ অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনায় শোকাহত ছিল দেশ। রক্তাক্ত সেই বাস্তবতার প্রতীক হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে লাল রঙের প্রতিবাদ।
‘৩০ জুলাই শুধু একটি প্রতিবাদের দিন ছিল না, এটি ছিল আমাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার দিন। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদে আমরা শিক্ষকরা রাজপথে নেমেছিলাম।’
Advertisement
আন্দোলনকারীরা জানান, সরকার ঘোষিত শোক দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে শহীদদের স্মরণ এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ জানাতেই তারা লাল প্রোফাইল ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জুলাই গণ অভ্যুত্থান আন্দোলনে রাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান/ছবি- জাগো নিউজ
এদিন ঢাকায় বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ আটক ছয় সমন্বয়ককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দেওয়ার আলটিমেটাম দেয়। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১টি সংগঠন লাল রঙ ধারণ করে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কেন্দ্রের এসব কর্মসূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা প্রকাশ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দেন।
এদিকে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবস প্রত্যাখ্যান করে ৩০ জুলাই সকালে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে প্রতিবাদ র্যালি ও সংহতি সমাবেশ আয়োজন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হওয়া র্যালিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের অনন্য প্রতীক তৈরি করেন।
Advertisement
র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে সংহতি সমাবেশে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও এই কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনপন্থি শিক্ষার্থীরা আশপাশে অবস্থান নেন এবং পুরো কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের নির্যাতন, হয়রানি এবং ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে বিবৃতি দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনাকে তিনি নিন্দা জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
‘মুখে বাঁধা লাল কাপড় ছিল রক্তাক্ত বাস্তবতার প্রতীক, একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের নৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে নীরব থাকা যায় না। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে, রাষ্ট্র ও সমাজের সংকটময় মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষেও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জায়গা।’
সমাবেশে রাবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু প্রথমে ছাত্রলীগ এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের দমন করা হয়েছে।
রাজপথে গুলি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক, অভিভাবক এবং বাবা হিসেবে এই শোক বহন করা সম্ভব নয়। বিবেকের তাড়নাতেই রাজপথে নেমেছি।
সমাবেশে অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের রক্তে আজ পুরো জাতি রঞ্জিত। নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুধু শিক্ষকদের নয়, সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সে কারণেই সরকার ঘোষিত শোক দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে মুখে লাল কাপড় বেঁধে তারা শোক নয়, প্রতিবাদের বার্তা দিতে রাজপথে নেমেছেন।
ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসা. ইসমাত আরা বেগম সমাবেশে জানান, একজন মা হিসেবে তিনি সেই সব মায়েদের কষ্ট অনুভব করেন, যাদের সন্তানদের গুলি করা হয়েছে বা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি না চালানোর আহ্বান জানান।
সংহতি সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক মাসুদুল হাসান খান মুক্তা, অধ্যাপক আব্দুর রহিম সাগর, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। শিক্ষকদের এই অবস্থান শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং কেন্দ্রীয় আন্দোলনের সঙ্গে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংহতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।
‘শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পাশে দাঁড়ানো। নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ছিলাম। তাই রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ না নিয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়েছিলাম। এটি ছিল নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের নৈতিক অবস্থানের প্রতীক।’
অন্যদিকে, পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, ডিবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সীমিত ছিল, তবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা সমাবেশস্থলের আশপাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এর আগের দিন, ২৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদ রাজনকে নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারীরা আটক করে। পরে তাকে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।
আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার মোবাইল ফোনের তথ্য ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। যদিও ৩০ জুলাই উল্লেখযোগ্য কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালানো হয় এবং আন্দোলনকারীদের খুঁজতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও তৎপরতা দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
রাবির সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৩০ জুলাই শিক্ষকদের কর্মসূচিই তাদের আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। সেদিন শিক্ষার্থীরা নিজেরা বড় কোনো কর্মসূচি না দিলেও শিক্ষকদের কর্মসূচির সমন্বয় করেছিলেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও ধরপাকড়ের আশঙ্কার মধ্যেও তারা পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হন।
প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মাসুদুর হাসান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান ও গবেষণার স্থান নয়, এটি সমাজের ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও ধারক। ৩০ জুলাই আমরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, তা ছিল নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের নৈতিক অবস্থানের প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রশ্নে শিক্ষক সমাজ কখনোই উদাসীন থাকতে পারে না। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সেদিন রাজপথে নেমেছিলাম।
আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২৭ জুলাই / সমন্বয়ক ছাড়াই টিকে ছিল রাজশাহীর আন্দোলন৩০ জুলাই মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।
সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পাশে দাঁড়ানো। নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ছিলাম। তাই রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ না নিয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়েছিলাম। এটি ছিল নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের নৈতিক অবস্থানের প্রতীক।
৩০ জুলাইয়ের সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মুখে লাল কাপড় বেঁধে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
দুই বছর পর সেই দিনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ৩০ জুলাই শুধু একটি প্রতিবাদের দিন ছিল না, এটি ছিল আমাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার দিন। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদে আমরা শিক্ষকরা রাজপথে নেমেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, মুখে বাঁধা লাল কাপড় ছিল রক্তাক্ত বাস্তবতার প্রতীক, একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের নৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে নীরব থাকা যায় না। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে, রাষ্ট্র ও সমাজের সংকটময় মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষেও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জায়গা।
জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে ৩০ জুলাই তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল রঙের প্রতিবাদের দিন নয়; এটি ছিল দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ঐক্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কেন্দ্রের আন্দোলনের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংহতি সেদিন দেখিয়েছিল, দাবি শুধু শিক্ষার্থীদের ছিল না- ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষায় দেশের শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
এনএইচআর/জেআইএম