২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার পর হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই তিনি নীরবতা ভেঙে ফাইনালের অভিজ্ঞতা, নিজের রেফারিং নিয়ে সমালোচনার জবাব এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠের কথোপকথন নিয়ে মুখ খুলেছেন। একই সঙ্গে আধুনিক ফুটবলে ভিএআরের গুরুত্ব নিয়েও স্পষ্ট মত দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ রেফারি।
Advertisement
পেশাদার রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পর স্লোভেনিয়ান সংবাদমাধ্যম স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রধান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ জানান, ফিফার কাছ থেকে ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি প্রথমে তাকে বিস্মিত করেছিল।
ভিনচিচ বলেন, ‘শুরুতে এটি আমার জন্য ছিল একটি বড় ধাক্কা। এরপর আমি গর্ব অনুভব করি, কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে আমরা স্লোভেনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছিলাম।’
তবে সেই গর্বের পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও অনুভব করেছিলেন বলে জানান তিনি, ‘আমি ফিফা রেফারিজ কমিটি এবং পিয়েরলুইজি কলিনাকে আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম। একই সঙ্গে বুঝেছিলাম, এই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে এবং ম্যাচটি সফলভাবে শেষ করাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
Advertisement
ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন ভিনচিচ। তিনি জানান, সহকারী রেফারি তোমাজ ক্লাঞ্চনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচকে নিয়ে তারা দুই দলের খেলোয়াড়দের আচরণ, খেলার ধরন এবং ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য, খেলা থামলে তাদের প্রতিক্রিয়া এবং খেলার ধরন নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে কোনো ম্যাচের জন্য শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ম্যাচই আলাদা।’
বিশ্বকাপের মতো ম্যাচ পরিচালনার চাপ প্রসঙ্গে সাবেক এই রেফারি বলেন, ‘একজন রেফারির পুরো ক্যারিয়ার যেন একটি ম্যাচের ওপর নির্ভর করে। দায়িত্বটা ছিল বিশাল।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভিনচিচ মনে করেন, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিং না থাকা প্রমাণ করে তারা ভালো কাজই করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, আমাদের রেফারিং কৌশল সঠিক ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে তার সহকারী কর্মকর্তারা পরিবারের মতো হয়ে উঠেছিলেন এবং তাদের ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।’
Advertisement
বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির সঙ্গে হওয়া কথোপকথন নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ভিনচিচকে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি, ‘সেই কথোপকথন মাঠেই রেখে দিতে চাই। তবে এটুকু বলতে পারি, মেসি অত্যন্ত ক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছে।’
সবশেষে আধুনিক ফুটবলে ভিএআরের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এই স্লোভেনিয়ান রেফারি, ‘ভিডিও দেখে ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়। বর্তমান ফুটবলের গতিতে সবকিছু খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এখন রেফারিং করার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
অবসরের পর ভিনচিচের এই মন্তব্য বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে চলা নানা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান এবং মেসির ক্রীড়াসুলভ আচরণের প্রশংসা রেফারিদের সন্তুষ্ট করেছে।
আরআর/আইএন